জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ
বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেবেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয় এবং ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।
২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামলে তৎকালীন সরকার তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে। তবে ২০২৪ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে তা পুনর্বহাল হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলন শুরু করে। শুরু থেকেই সরকার তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে নানা তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না? তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?’ এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সেদিন রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং পরদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে পুনরায় কর্মসূচি পালন করে। এ সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে।
এই আন্দোলনে অংশ নেন আবু সাঈদ। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন সারা দেশে ছয়জন নিহত হন। পরবর্তীতে আন্দোলনে সাধারণ জনগণও যোগ দেয়।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসে, আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।









