মানুষের জীবনে রোগ-ব্যাধি এক অনিবার্য বাস্তবতা। কখনো সামান্য অসুস্থতা, আবার কখনো জটিল রোগ সব ক্ষেত্রেই শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক দুর্বলতা মানুষকে গ্রাস করে। তবে ইসলাম এই সংকটময় সময়কে শুধুমাত্র কষ্ট হিসেবে দেখেনি বরং ধৈর্য, আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে তা মোকাবিলার শিক্ষা দিয়েছে।
ইসলামে অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং মহান আল্লাহর কাছে আরোগ্য প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে একটি শক্তিশালী দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، مُذْهِبَ الْبَاسِ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شَافِيَ إِلَّا أَنْتَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাসি মুজহিবাল বাসি, ইশফি আনতাশ-শাফি, লা শাফি ইল্লা আনতা, শিফায়ান লা-ইয়ুগাদিরু সাকমা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূরকারী। আপনি আমাকে আরোগ্য দান করুন। আপনি ছাড়া আর কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন, যাতে কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবি আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিদের ওপর এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। এতে বোঝা যায়, শুধু চিকিৎসা নয়, বরং দোয়া ও আধ্যাত্মিক সহায়তাও রোগমুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এই দোয়া মুসলমানদের জন্য শুধু আরোগ্যের প্রার্থনা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস, নির্ভরতা এবং আশার প্রতীক। কঠিন অসুস্থতার সময় এই দোয়া অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয় এবং রোগীর মানসিক শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫৭৪২)









