যেসব আমল করলে সহজে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়
প্রকাশ:

বিস্তারিত
মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা এবং হৃদয়ে প্রিয় হয়ে ওঠা সহজ কাজ নয়। তবে এমন কিছু গুণ ও আচরণ রয়েছে, যা চর্চা করলে মানুষের অন্তরে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। এসব গুণাবলি আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও চরিত্র থেকেই শেখা। তাঁর প্রতিটি আচরণ ছিল উত্তম নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আগে সালাম দেওয়া
মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো সালাম প্রচার করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনো, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অন্যকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার করো।’ (মুসলিম, আস-সহিহ, ৫৪)
হাসিমুখে কথা বলা
মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতে হাসিমুখে কথা বলা আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ। এটি মানুষের হৃদয়ে দ্রুত স্থান করে নেওয়ার একটি সহজ মাধ্যম। আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাসি দেওয়াও একটি সদকা।’ (তিরমিজি, আস-সুনান, ১৯৫৬)
প্রিয় নামে সম্বোধন করা
মানুষকে তার পছন্দের নাম বা ডাকনামে ডাকা তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুন্দর উপায়। হানজালা ইবনু হুজাইম (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কারো কাছে তার সবচেয়ে প্রিয় নাম বা ডাকনামে ডাকতে পছন্দ করতেন।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়িদ, হাদিস : ১২৮৯৪)
নবীজি (সা.) অনেক সাহাবিকে ভালোবাসা ও মর্যাদা প্রকাশে বিশেষ উপাধিতে ডাকতেন। যেমন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)-কে বলতেন ‘উম্মাহর আমানতদার’ (বুখারি, ৩৭৪৪) এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রা.)-কে বলতেন ‘আল্লাহর তরবারি’ (আহমদ, ৪৩)।
মুসাফাহা করা
সাক্ষাতে আন্তরিকভাবে হাত মেলানো সম্পর্ককে দৃঢ় করে। আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কারো সঙ্গে মুসাফাহা করতেন, তিনি আগে হাত সরাতেন না, যতক্ষণ না অপর ব্যক্তি নিজে হাত সরিয়ে নিত।’ (তিরমিজি, ২৪৯০)
মনোযোগ দিয়ে শোনা
কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা তার প্রতি সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়ার পরিচায়ক। নবীজি (সা.) এমনকি বিরোধীদের কথাও ধৈর্যের সঙ্গে শুনতেন। উতবা ইবনু রাবিয়ার ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আলাপ ও হাস্যরস
নবীজি (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে বসে কথোপকথনে অংশ নিতেন এবং হাস্যরস করতেন। এতে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হতো। আনাস (রা.) বলেন, তিনি তাঁকে স্নেহভরে ‘ইয়া জা-উযনাইন’ বলে ডাকতেন (আহমদ, ১২১৬৪)। তবে অতিরিক্ত ঠাট্টা-বিদ্রুপ পরিহার করা উচিত।
সাহায্য-সহযোগিতা করা
মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা ও সহযোগিতা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের প্রতিটি অঙ্গের ওপর প্রতিদিন সদকা করা কর্তব্য (মুসলিম, ২২০৭)। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো মুমিনের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো, ক্ষুধা দূর করা বা প্রয়োজন পূরণ করা এগুলো শ্রেষ্ঠ আমল।’ (বায়হাকি, ৭২৭৪)
নম্রতা ও সহনশীলতা
নম্রতা মানুষের হৃদয় জয় করার সবচেয়ে সহজ উপায়। নবীজি (সা.) নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতেন (ইবন মাজাহ, ৩৩২২)। এমনকি কেউ রূঢ় আচরণ করলেও তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন যেমন বেদুইনের ঘটনাটি (বুখারি, ৫৮০৯)।
খোঁজখবর রাখা
মানুষের অনুপস্থিতিতে তার খোঁজ নেওয়া ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের পরিচায়ক। নবীজি (সা.) সাহাবিদের খোঁজ নিতেন, অসুস্থদের দেখতে যেতেন এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতেন। এমনকি মসজিদ পরিষ্কার করা এক নারীর মৃত্যুর পরও তিনি তার জানাজা আদায় করেন (মুসলিম, ৯৫৬)।
এসব আচরণ প্রমাণ করে, আন্তরিকতা, সম্মান ও সহানুভূতির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান তৈরি করা সম্ভব।








