দুই পুঁজিবাজারে লেনদেন--
- ডিএসইতে ৬৬১৭ কোটি, টপটেন ২০৩৫ কোটি
- ডিএসইর পিই ১৬.৮৯ পয়েন্ট, ব্যাংক ৮.১০
- সেরা শিপিং কর্পোরেশন, দ্বিতীয় বেক্সিমকো
- গেইনারে সেরা ইউনিয়ন, লুজারে কুইন সাউথ
লেনদেন সেরার তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির বেক্সিমকো ও বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার। কোম্পানি দুটো লেনদেনের শীর্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয়তে থাকলেও শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ৩৩৬ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার টাকার বা ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়।
বিদায়ি সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে ভালো কোম্পানির শেয়ার দর কদর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৯০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লেনদেনে অবস্থান করেছে। লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি ২ হাজার ৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বা ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা করেছে। যেখানে সপ্তাহটিতে মোট ৩৯২টি কোম্পানি লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৬১৭ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ টাকার শেয়ার।
গেল সপ্তাহে অর্থের পরিমাণে লেনদেন সেরা অবস্থানে ‘এ’ ক্যাটাগরির বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে ওঠে এসেছে ‘এ’ ক্যাটাগরির বেক্সিমকোর শেয়ার। তৃতীয় অবস্থানে ওঠে এসেছে বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার। সপ্তাহটিতে ওই তিন কোম্পানি ৯৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা শেয়ার কেনাবেচা হয়।
সপ্তাহটিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন একাই ৪৩১ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার বা ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত বৃহস্পতিবার শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ১৪১ দশমিক ১০ টাকা। আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৩৪ দশমিক ৮০ টাকা। সপ্তাহটিতে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৩০ টাকা। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৩ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৬টি শেয়ার লেনদেন হয়। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন ১৫২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার।
লেনদেন সেরার তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির বেক্সিমকো ও বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার। কোম্পানি দুটো লেনদেনের শীর্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয়তে থাকলেও শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ৩৩৬ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার টাকার বা ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ১৪৭ দশমিক ২০ টাকা।
আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৫১ দশমিক ১০ টাকা। সপ্তাহটিতে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৩ দশমিক ৯০ টাকা। সপ্তাহজুড়ে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৬টি শেয়ার লেনদেন হয়। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন ৮৭৬ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার। বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ২১৬ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বা ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়।
গত বৃহস্পতিবার শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ৬২৭ দশমিক ৫০ টাকা। আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ৬৫০ দশমিক ৮০ টাকা। সপ্তাহটিতে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ২৩ দশমিক ৩০ টাকা। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ১৯৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন ৫৪০ কোটি টাকা।
এছাড়া টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা (এ ক্যাটাগরি) ২১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ (এ ক্যাটাগরি) ১৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক (এ ক্যাটাগরি) ১৫২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, দি একমি ল্যাবরেটরিজ (এ ক্যাটাগরি) ১৩৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বি ক্যাটাগরি) ১২০ কোটি ১২ লাখ টাকা, বে-লিজিং (এ ক্যাটাগরি) ১১৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক (এ ক্যাটাগরি) ১১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার ‘বি’ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির থেকে তুলনামূলক ভালো বিধায় নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার।
আবার যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া ‘এন’ ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো ‘এন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
ডিএসইর সূত্রমতে, গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় ৬০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। টপটেন লুজারে অবস্থান করেছে ৫০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া টপটেন লেনদেনে ৯০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট ছিল। অপরদিকে, টপটেন গেইনারে ২০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ২০ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরি শেয়ার অবস্থান করেছে। লুজারে ৪০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ১০ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। এই ধরনের লেনদেন চিত্রকে সবাই স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টারা।
গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৫টির বা ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এন’ ক্যাটাগরির ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল। সপ্তাহটিতে লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৬০ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে শীর্ষে উঠে আসে।
গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৫টির বা ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির কুইন সাউথ টেক্সটাইল শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম ছিল। লেনদেন মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এই কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজারের শীর্ষে উঠে আসে।
গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিডি থাই ফুড (এন ক্যাটাগরি) ৫৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল (এ ক্যাটাগরি) ৪১ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার (এ ক্যাটাগরি) ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, কাট্রালি টেক্সটাইল (এ ক্যাটাগরি) ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স (এ ক্যাটাগরি) ১৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, তসরিফা (বি ক্যাটাগরি) ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ, খুলনা পাওয়ার (এ ক্যাটাগরি) ১৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমার (বি ক্যাটাগরি) ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইউনিক হোটেল (এ ক্যাটাগরি) ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
ওই সপ্তাহে টপটেন লুজারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বি ক্যাটাগরি) ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ, সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স (বি ক্যাটাগরি) ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স (এ ক্যাটাগরি) ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, ন্যাশনাল পলিমার (এ ক্যাটাগরি) ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, লিবরা ইনফিউশন (এ ক্যাটাগরি) ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, অগ্নি সিস্টেমস (বি ক্যাটাগরি) ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংক (এন ক্যাটাগরি) ৫ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুড (বি ক্যাটাগরি) ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ (এ ক্যাটাগরির) ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
ডিএসইর সূত্র মতে, ‘গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৬ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৯০ শতাংশ।’
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করেছে ব্যাংক খাতের ৮ দশমিক ১০ পয়েন্টে, জ্বালানি শক্তি খাতের ১২ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৪ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৭ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, ওষুধ রসায়ন খাতের ১৮ দশমিক ৭০ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ২০ পয়েন্টে, সাধারণ বীমা খাতের ২১ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২১ দশমিক ১০ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ২২ দশমিক ১০ পয়েন্টে, নন ব্যাংকি আর্থিক খাতের ২৪ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, সেবা আবাসন খাতের ২৫ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৩১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২৮ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিই ধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানান বিএসইসি। সেই হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর পিই দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। মানে পিই হিসাবে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।









