পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মুন্নু ফেব্রিক্স গত সমাপ্ত অর্থবছরে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস) লঙ্ঘন করেছে বলে এমন আপত্তিকর মন্তব্য (কোয়ালিফাইড ওপিনিয়িন) করেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। পাশাপাশি, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছে না কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর মাধ্যমে নিরীক্ষক জানায়, মুন্নু ফেব্রিক্স কর্তৃপক্ষ গত (২০২০-২১) অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে ডেফার্ড ট্যাক্স হিসাব করেনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-১২ এর প্যারা ১৫ ও ২৪ পরিপালন করা হয়নি। এর ফলে কোম্পানির আয় ব্যয়ের সঠিক তথ্য দেখানো হয়নি। ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে (ডব্লিউপিপিএফ) মুন্নু ফেব্রিক্সে ১৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা রয়েছে। এর মধ্যে আগের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা অন্তর্ভূক্ত আছে।
২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী, অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯ মাসের মধ্যে ফান্ড বিতরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই ফান্ড কর্মীদের মধ্যে বিতরণ না করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ওই ফান্ডের বিপরীতে সুদ গণনা করেনি বলে জানায় নিরীক্ষক।
ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে আসা ‘জেড ক্যাটাগরি’মুন্নু ফেব্রিক্স অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১১৫ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার। গতকাল সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার দর ২০ টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভ ১৬১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। স্বল্পমেয়াদি লোন ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ও দীর্ঘমেয়াদি লোন রয়েছে ২৮৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ মালিকানা রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে । এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগ ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও বাকি ৩৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
২০২০-২০২১ (জুলাই-জুন) সমাপ্ত অর্থবছরের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছিল ২৭ দশমিক ৩১ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ পয়সা। এছাড়া ২০২১-২০২২ (জুলাই থেকে জুন) সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৩৮ টাকা এবং ইপিএস হয়েছে ২ পয়সা।
আনন্দবাজার/শহক









