দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবার লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করে। এদিন পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রেতা খুঁজে পাওয়া না গেলেও বিক্রেতার হিড়িক পড়েছে। বিক্রির চাপে এদিন ৯১ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এদিন ডিএসইর সব ধরনের সূচক পতন হয়। সূচক পতনের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বিক্রির চাপে এদিন ৮৭ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন লেনদেন পরিমাণ বাড়ে।
রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতনের কবলে। সেই পতন রোজায় আরো বেড়েছে। পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নীরবে কেঁদেছেন বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় দীর্ঘদিন পর ঈদের আগের কয়েকদিন পুঁজিবাজার উত্থানে ছিল। সেই সময় লেনদেন, শেয়ার দরসহ সূচক চাঙ্গা ছিল। চাঙ্গায় শেয়ার লসে বিক্রয় করা থেকে বিরত ছিলেন অনেকেই। এ কারণে পুঁজিবাজারে ক্রয় চাপ বেড়েছিল, বিক্রয় চাপ কমেছিল। কিন্তু গত কয়েক কার্যদিবস তার উল্টো গতিতে পুঁজিবাজার। এদিন লেনদেন পরিমাণ হাজার কোটি টাকা বা এর কাছাকাছি থাকলেও পতন হয় সব ধরনের সূচক। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর। পতনে এদিন পুঁজিবাজারে শেয়ারের বিক্রয় চাপ ব্যাপক হারে বাড়ে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৯১ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং সিএসইর ৮৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সিএসইর ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের কমা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে এদিন সিমেন্ট, জ্বালানি শক্তি, আইটি, পাট, পেপার, সেবা আবাসন এবং টেলিকম খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, নন ব্যাংকিং আর্থিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্ত্র, খাদ্য আনুষঙ্গিক, ফান্ড, বিমা, বিবিধ, ফান্ড, ওযুধ রসায়ন, সিরামিক, চামড়া এবং ভ্রমণ অবসর খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের ৯৫ শতাংশ, বিমা ৯৪ শতাংশ, বিবিধ খাতের ৯৩ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৮৭ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৯২ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৮৭ শতাংশ, চামড়া খাতের ৮৩ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৮১ শতাংশ, ফান্ড খাতের ৭৭ শতাংশ, ভ্রমণ অবসর খাতের ৭৫ শতাংশ, নন ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ৭৪ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৬৪ শতাংশ এবং সিরামিক খাতের ৬০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। কমার একই চিত্র ছিল সিএসইতেও। দুই স্টকের এ ধরনের শেয়ারের দর হ্রাসকে অস্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৮২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ৩৪৮টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৭টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৪০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ২১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪১০ দশমিক ২৯ পয়েন্টে।
এদিনে ডিএসইতে শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে শাইনপুকুর ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন বেক্সিমকো ৪৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা, জেএমআই হাসপাতাল ৪৩ কোটি ৩ লাখ টাকা, আরডি ফুড ৩৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং সিরামিক ২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এনআরবি কর্মাশিয়াল ব্যাংক ১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সালভো কেমিক্যাল ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ২৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৬টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৩৩টির, কমেছে ২৬৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৭টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩৮২ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার৮৬৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ২৬ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৯২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ২২৯ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১৯ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৬৭০ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩২১ দশমিক ১৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৯৪ দশমিক ৫০ পয়েন্টে।
সিএসইতে আইপিডিসি ফাইন্যান্স ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরডি ফুড ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ৩ কোটি ২ লাখ টাকা, জেএমআই হাসপাতাল ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ১২ লাখ টাকা, এনআরবি কর্মাশিয়াল ব্যাংক ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং সিরামিক ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং বেক্সিমকো ১ কোটি ১২ লাখ শেয়ার কেনাবেচা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









