- চামড়ায় শতভাগ পতন, উত্থান ১৯ ভাগ কোম্পানি
- লেনদেন ডিএসইতে ১০০৫ কোটি, সিএসইতে ৩৪ কোটি
- সেরা ডিএসইতে বেক্সিমকো, সিএসইতে আরডি ফুড
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন ডিএসইর লেনদেন পরিমাণ কমলেও সিএসই বেড়েছে।
দুই স্টকে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৬৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে ৬৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং সিএসইতে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। এদিন উভয় স্টকে ১৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং সিএসইতে ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ডিএসইতে চামড়া খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এছাড়া নন ব্যাংক আর্থিক, জ্বালানি শক্তি, ব্যাংক, সেবা আবাসন, ভ্রমণ অবসর, বিমা, খাদ্য আনুষঙ্গিক, টেলিকম, ওযুধ রসায়ন, বস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিমেন্ট খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদের মধ্যে নন ব্যাংক আর্থিক খাতের ৯১ শতাংশ, জ্বালানি শক্তি খাতের ৮৩ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৭৬ শতাংশ, সেবা আবাসন খাতের ৭৫ শতাংশ, ভ্রমণ অবসর খাতের ৭৫ শতাংশ, বিমা খাতের ৭০ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৬৭ শতাংশ, টেলিকম খাতের ৬৭ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৬৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ৬২ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৬২ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতের ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিরগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ২৫৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৫টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১৩ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৭৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৫০৮ দশমিক ১৪ পয়েন্টে।
ডিএসইতে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির (বেক্সিমকো) শেয়ার কেনাবেচায় বৃহস্পতিবার কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। এদিন কোম্পানিটি একাই লেনদেন করেছে ১০৪ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার টাকার শেয়ার। যেখানে ডিএসইর ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান একত্রে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। এই লেনদেনে শীর্ষে ওঠে আসা কোম্পানিটি।
এরপর লেনদেনর শীর্ষ অবস্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মা ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৫৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ২১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ইয়াকিন পলিমার ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, সোনালী পেপার ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, রহিমা ফুড ১৬ কোটি ২ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং স্কয়ার ফার্মা ১২ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে জিকিউ বলপেনের শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে। ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ উত্থান হয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে ওঠে এসছে। শেয়ার দর বৃদ্ধি দ্বিতীয় অবস্থানে স্টাইল ক্রাইফ। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শেয়ার দর বৃদ্ধি তৃত্বীয় অবস্থানে এপেক্স ফুড। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এরপর শেয়ার দর বেড়েছে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, এমবি ফার্মা ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলস ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যাল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, আরামিট সিমেন্ট ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, বেঙ্গল উইন্ডসর ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এদিন ডিএসইতে সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে। ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ পতন হয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমার শীর্ষে ওঠে এসছে। শেয়ার দর কমার দ্বিতীয় অবস্থানে সিঙ্গার বাংলাদেশ। কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৪ শতাংশ। শেয়ার দর কমার তৃত্বীয় অবস্থানে সেনা কল্যান ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৪ শতাংশ। এরপর শেয়ার দর কমেছে ফার কেমিক্যাল ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ফরচুন সুজ ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ইউনিক হোটেল ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, মীর আকতার ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্স ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সুহৃদ ইন্ডাস্টিজ ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং দি পেনিনসূলা ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২১৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৮টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৭৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৫৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১২ দশমিক ৫০ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১২৭ দশমিক ৭২ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১০৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫১১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৪৩৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে, ১২ হাজার ২৮৩ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ২৫ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে আরডি ফুড একাই লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ১০ টাকার শেয়ার। যেখানে সিএসইতে ৩১২টি প্রতিষ্ঠান একত্রে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার। এই লেনদেনে শীর্ষে ওঠে আসা কোম্পানিটি। এরপর লেনদেনর শীর্ষ অবস্থানে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংক ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ১১ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ১ কোটি ৬ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ৯৫ লাখ টাকা, রবি ৯৩ লাখ টাকা এবং লিন্ডে বিডি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









