দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক টপটেন লেনদেনে ভালো মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার দর কদর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ক্যাটাগরির ৯০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লেনদেনে অবস্থান করেছে।
সপ্তাহটিতে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ২৪৩ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার ১৩৫ টাকার শেয়ার। এর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি ৩৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বা ২ হাজার ৯৭২ কোটি ৫৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেছে। এর মধ্যে শীর্ষে থাকা ‘বি’ক্যাটাগরির বেক্সিমকো একাই ৬৯৬ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়।
ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় ৫০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। টপটেন লুজারে অবস্থান করেছে ৫০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া টপটেন লেনদেনে ৯০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট ছিল। অপরদিক টপটেন গেইনারে ৫০ শতাংশ ‘বি’ক্যাটাগরির শেয়ার অবস্থান করেছে। লুজারে ২০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি, ১০ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরি এবং ২০ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। এছাড়া টপটেন লেনদেনে ১০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। এই ধরনের চিত্রকে সবাই স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টারা।
ডিএসইর সূত্র মতে, “গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৬ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বা শূন্য ৬ শতাংশ।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিই ধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানান বিএসইসি। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার ডিএসইর পিই দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে। মানে পিই হিসাবে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার ‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির থেকে তুলনামূলক ভালো বিধায় নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। আবার যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া ‘এন’ ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো ‘এন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করেছে ব্যাংক খাতের ৮ দশমিক ১০ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের ১৩ দশমিক ১০ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৭ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৭ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, ওষুধ রসায়ন খাতের ১৯ দশমিক ৪০ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১২ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ১৯ দশমিক ৪০ পয়েন্টে, সাধারণ বীমা খাতের ২০ দশমিক ২০ পয়েন্টে, সেবা আবাসন খাতের ২৭ দশমিক ৪০ পয়েন্টে, নন ব্যাংকি আর্থিক খাতের ২৫ দশমিক ২৭ পয়েন্টে, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৩১ দশমিক ৪০ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৩৩ দশমিক ৫০ পয়েন্ট এবং সিরামিক খাতের ৩৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২৪টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ফার্মা এইডস শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল। সপ্তাহটিতে লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে শীর্ষে উঠে আসে। গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩৯টির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সপ্তাহটিতে ‘জেড’ ক্যাটাগরির তাল্লু স্পিনিং শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম ছিল। লেনদেন মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজারের শীর্ষে উঠে আসে। এছাড়া সপ্তাহটিতে ‘বি’ ক্যাটাগরির বেক্সিমকোর শেয়ার অর্থের পরিমানে লেনদেন শীর্ষে উঠে আসে। ওই সপ্তাহে কোম্পানিটি ৬৯৬ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়। এ মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে।
গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফু-ওয়াং সিরামিক (বি ক্যাটাগরি) ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল (বি ক্যাটাগরি) ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, শমরিতা হাসপাতাল ২২ দশমিক ২৩ শতাংশ, দেশ গার্মেন্স (বি ক্যাটাগরি) ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমার (বি ক্যাটাগরি) ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ, ওরিয়ন ফার্মা ১৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, জিমিনি সি ফুড (বি ক্যাটাগরি) ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং এসিআই ফরমুলেশন ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
ওই সপ্তাহে টপটেন লুজারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ১২ দশমিক ২২ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিম (এন ক্যাটাগরি) ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ, তিতাস গ্যাস ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বেক্সিমকো গ্রীন সুকুক (এন ক্যাটাগরি) ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলস (বি ক্যাটাগরি) ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, বসুন্ধরা পেপার ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, পাওয়ার গ্রিড ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, ন্যাশনাল ট্রিউবস (বি ক্যাটাগরি) ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ইফাদ অটোস ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
এছাড়া টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৩৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ৩৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৩১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ২৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকা, পাওয়ার গ্রিড ২১৮ কোটি ৬ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ১৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিক ১৯৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ফারইস্ট ইষলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৮৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং ওরিয়ন ফার্মা ১৬৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়।
আনন্দবাজার/শহক









