- ডিএসইর ৬শ কোটিতে, সিএসইর ২৮ কোটি
- শীর্ষে ডিএসইতে রবি, সিএসইতে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবার লেনদেন ৬শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করে। অপরদিক চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন ২৮ কোটি ঘরে চলে এসেছে। উভয় স্টকের প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স ও সিএএসপিআই) পতন হয়। দুই স্টকের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে।
নানা মহলের শত চেষ্টায় পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি আগারগাওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই ধৈর্য ধরুন,পুঁজিবাজার ভালো হবে। শিবলী রুবাইয়াতের এমন আশ্বাসের ঠিক পরের কার্যদিবস সত্যিই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। ঘুরে ফিরে সেই উত্থান মন্দায় রূপে এসেছে।
দুই স্টকের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং সিএসইর ৪৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। অপরদিকে ডিএসইর ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং সিএসইর ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে ব্যাংক, নন ব্যাংকিং আর্থিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, আইটি, চামড়া এবং টেলিকম খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।
এদিন বস্ত্র, খাদ্য আনুষঙ্গিক, বিবিধ, পাট, সিমেন্ট এবং সিরামিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন ইঞ্জিনিয়ারি, ফান্ড, পেপার, ওষুধ রসায়ন, সেবা আবাসন এবং ভ্রমন অবসর খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বাড়া-কমার ছন্দ ছিল। শেয়ার দর বৃদ্ধির চেয়ে হ্রাসের চিত্র বেশি ছিল অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে। এদিন সিএসইর অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।
ডিএসইতে গতকাল সোমবার লেনদেন হয়েছে ৬৬২ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার। গত রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৬৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৪৯টির, কমেছে ১৮২টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫০টির।
এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট। এছাড়া ডিএসইএস সূচক দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮৫ দশমিক ১৬ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে এদিন (সোমবার) লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। গত রবিবার লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১২৮টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪০টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।
সিএসই-৫০ সূচক দশমিক ৭২ পয়েন্ট এবং সিএসসিএক্স সূচক ৪ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৭১ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে এবং ১১ হাজার ২০৪ দশমিক ২৩ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক ২৪ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১ দশমিক ৩৪ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৩ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৮২ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে রবির শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। রবি ৩৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাইনপুকুর ২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ১৯ কোটি ২ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং ফুড ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, তিতাস গ্যাস ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, এসিআই ফর্মুলেশনস ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে সিএসইতে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রবি ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ১ কোটি ৫০ রাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, স্কয়ার র্ফামা ৭৩ লাখ টাকা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ৭১ লাখ টাকা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ৫৮ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৫৬ লাখ টাকা, এ্যাপোলো ৫৩ লাখ টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ৪৯ লাক টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









