পুঁজিবাজারে লেনদেন---
- বেড়েছে ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর
- বিক্রির চেয়ে কেনার চাপ বেশি
- সিএসইতে শীর্ষ শিপিং কর্পোরেশন
- ডিএসইতেশীর্ষ বেক্সিমকো
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ধরনের সূচক চলতি বছরের (২০২২ সাল) প্রথম কার্যদিবস উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দুই স্টকে বেড়েছে ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। তবে আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ কমেছে। গতকাল রবিবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতকাল দুই পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক বেড়েছে। এদিন শেয়ার বিক্রয়ের চেয়ে কেনার চাপ বেশি ছিল। এদিন দুই স্টকের ৭৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৭৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। অপরদিক এদিন দুই স্টকের ১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতনে হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সিএসইর ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রমতে, রবিবার ডিএসইতে সিরামিক এবং সেবা আবাসন খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন এই স্টকের আর্থিক, বস্ত্র, বীমা, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিধ, ওযুধ রসায়ন, সিমেন্ট, খাদ্য আনুষঙ্গিক, আইটি, মিউচুয়াল ফান্ড, চামড়া, টেলিকমিউনিকেশন এবং ভ্রমণ অবসর খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৩২টির মধ্যে ২৬টি, নন ব্যাংকিং খাতের ২৩টির মধ্যে ১৮টি, বস্ত্র খাতের ৫৮টির মধ্যে ৫৫টি, বীমা খাতের ৫২টির মধ্যে ৩৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪২টির মধ্যে ৩২টি, বিবিধ খাতের ১৪টির মধ্যে ১২টি, ওযুধ রসায়ন খাতের ৩২টির মধ্যে ২৩টি, সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৫টি, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২৩টির মধ্যে ২০টি, আইটি খাতের ১১টির মধ্যে ১০টি, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩৭টির মধ্যে ২৭টি, চামড়া খাতের ৬টির মধ্যে ৪টি, টেলিকমিউনিকেশন খাতের ৩টির মধ্যে ২টি এবং ভ্রমণ অবসর খাতের ৪টির মধ্যে ৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে পেপার এবং পাট খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদের মধ্যে পেপার খাতের ৬টির মধ্যে ৪টি এবং পাট খাতের ৩টির মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন হয়েছে। শেয়ার দর বাড়া-কমার একই চিত্র ছিল সিএসইর পুঁজিবাজারে। বছরের শুরুতে দুই স্টকের ৭৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান পুঁজিবাজারের এক ধরনের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার প্রতি বিনিয়োগে আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানান তারা।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে রবিবার লেনদেন হয়েছে ৮৯৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ২৯৪টির, কমেছে ৬৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২০টির। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ফরচুন সুজ, আইএফআইসি ব্যাংক, জিএসপি ফাইন্যান্স, সোনালী পেপার, ওয়ান ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পাওয়ার গ্রীড।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৫৩ দশমিক ১৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৮ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১৪ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৬০ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৪৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজারে এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৫৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ২০৭টির, কমেছে ৪১টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৪টির। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, জিএসপি ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মা, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, বেক্সিমকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ফরচুন সুজ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, পাওয়ার গ্রিড।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩৮৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ২৯ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৪৬ দশমিক ৬০ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ২৩৩ দশমিক ২৯ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ২৫ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫০১ দশমিক ২৪ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৪৬ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ৭১ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/এম.আর









