- অস্বাভাবিক পতন থেকে মুক্তি দাবি
রেগুলেটরদের নানান উন্নয়নের পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতন কবলে। সেই পতন রাস্তায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পুঁজি হারিয়েছে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় দীর্ঘদিন পর কয়েকদিন ধরে পুঁজিবাজার উত্থানে।
গত তিন কার্যদিবস লেনদেন উত্থানে অনেকেই শেয়ার বিক্রি করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে। ফলে শেয়ার বিক্রয় চাপ কমেছে। ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে। এতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেন বৃদ্ধিতে পুঁজি হারানোর পথে মুখে পড়লো বাধা। পুঁজিবাজার উত্থান কারণে বিনিয়োগকরাীরা কিছুটা স্বস্তিতে এমনটি মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলেন, উত্থান পরিস্থিতিতেও পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক রূপ পেতে অপেক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে এসময় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হবার পরামর্শ দেন।
রমজানে পুঁজিবাজারের মন্দা আমাদের বিনিয়োগের অনেক ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে আইডিএলসি সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী মোমিন বলেন, ২০১০ সালের বড় ধসে আমি পুঁজিবাজারে অনেক পুঁজি হারিয়েছি। সেই হারানো থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যম বিনিয়োগ করেছি। দীর্ঘ ১১ বছরের ছোট-বড় অনেক পতন দেখেছি।
সবকিছু সামাল দিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছি। কিন্তু চলতি মাসের পতন আমাদের ব্যাপক জ্বালিয়েছে। মাত্র ১৮ দিনে পুঁজি হারিয়েছি ১৭ শতাংশ। এ ধরনের অস্বাভাবিক পতন আর দেখতে চাই না। পতন দেখতে দেখতে বিরক্ত। এবার দয়া করে রেগুলেটরা আমাদের অস্বাভাবিক পতন হাত থেকে মুক্তি দিন।
করোনা মহামারি (কোভিড ১৯) আমোদের অনেক কাঁদালো জানিয়ে আরেক বিনিয়োগকারী আমজাদ বলেন, বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রনে এসেছে। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় গত বছরের এপ্রিল থেকেই ডিএসই লেনদেন চমক দেখায়। কিন্তু এটি ধরে রাখতে পারেনি।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন আচরণে উত্থান চমক ধরে রাখতে পারেনি জানিয়ে বিনিয়োগকারী আমজাদ বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে লেনদেন হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছিল। সেই লেনদেন পরে আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে চলে এসেছিল। লেনদেনের উত্থান চলতি বছরেও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মন্দার কবলে পড়ে ডিএসই। মন্দায় গত এক মাসে ২০ শতাংশ পুঁজি হারিয়ে বসে আছি।
সম্প্রতির এই মন্দায় ১৫ শতাংশ পুঁজি হারিয়েছে জানিয়ে শাকিল রিজভী হাউজের বিনিয়োকারী ফয়সাল বলেন, পুঁজিবাজারের উত্থান পতন থাকবে। এটাই পুঁজিবাজারের চরিত্র। তবে অস্বাভাবিক উত্থান পতন চাই না। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে এ ধরনের অস্বাভাবিক পতন কেন হলো, নেই তার কারণ আক্ষেপ করে ফয়সাল বলেন, মন্দায় লেনদেন চারশ কোটি টাকার ঘরে চলে আসে। পতন সব ধরনের সূচকও। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর। কেন পতন হচ্ছে, নেই তার যৌক্তিক ব্যাখা। এই হলো পুঁজিবাজারের অবস্থা। আমরা এমন পুঁজিবাজার চাই না।
লেনদেন মন্দা কাটিয়ে উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইর লেনদেন বেড়ে সাড়ে ৭শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এদিন বেড়েছে ৭২ ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। বেড়েছে সব ধরনের সূচক।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৭২ দশমিক ৩৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং সিএসইর ২৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়াকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ব্যাংক বাদে বাকি সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন সিরামিক, পাট, বিবিধ, সেবা আবাসন এবং টেলিকম খাতের শতভাগ খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন নন ব্যাংক আর্থিক, সিমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্ত্র, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, ফান্ড, ওযুধ রসায়ন, চামড়া, আইটি এবং পেপার খাতের কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। আগের কার্যদিবস বুধবারেও একই অবস্থা ছিল। মন্দার পর পুঁজিবাজারের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর এধরনের উত্থান স্বাভাবিক ভাবেই দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৭৫৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৬০৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৩০০টির, কমেছে ৫৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৫টির।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৫ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৬২ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। আগের দিন বুধবার ডিএসইএক্স বেড়েছিল ৭৬ পয়েন্ট। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ দশমিক ২৩ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৬৪ দশমিক ৬২ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৯২টির, কমেছে ৮২টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৮টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৪৩ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৪১ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১০ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১০২ দশমিক ৮২ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৮৭ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৪ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৬৪ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ২৪৯ দশমিক ২৯ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৮০ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৪১ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/শহক









