- নিবন্ধন ফি ১২ থেকে ৭ শতাংশ করার দাবি
প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশ থেকে টাকা পাচারের সুযোগ দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই দেশে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপেক্ষে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি, সানেমসহ অর্থনীতিবিদরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করছেন। অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ও নৈতিক দিক দিয়েও এটা যৌক্তিত নয় বলছে তারা। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ তথা কালো টাকা আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ চাচ্ছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলেও মনে করছে রিহ্যাব।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ঘোষিত বাজেট নিয়ে আবাসন খাতের এক প্রতিক্রিয়ায় এমন দাবি জানান রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২০-২১ অর্থবছরে বিনাপ্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আবাসনে বিনিয়োগ হয়েছিল বলে জানান রিহ্যাব। তবে ২০২১-২১ সালে কালো টাকার বিনিয়োগ কমে ৯শ কোটিতে নেমে আসে। প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না হওয়ায় সরকার কেন বারবার কেন এ সুযোগ দিবে সরকার, এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট এবার সুযোগ দিলে ৫০ হাজার কোটি টাকা আবাসনে বিনিয়োগ হতে পারে আশা প্রকাশ করেন। কলো টাকা বিনিয়োগে প্রতিবছর কেন দাবি জানায় রিহ্যাব এবং এটা প্রত্যাহারের সুযোগ কেন দাবি করা হয় না। জবাবে সিস্টেমের কারণে কিছু টাকা অপ্রদর্শিত হয়ে যায় বলেন জানান রিহ্যাব প্রেডিসেন্ট। ঘুষ বা দুর্নীতির টাকা চান না বলে জানালেও বিদেশ থেকে পাচার টাকা দেশে আসলে তা আবাসনে বিয়োগের আশা প্রকাশ করেন।
‘হাউজিং লোন’নামে ২০ হাজার কোটি টাকার রিফিন্যান্সিং করার দাবি জানানো হয়। আবাসন খাতে বর্তমান রেজিস্ট্রেশন ব্যয় রয়েছে ১০-১২ শতাংশ। তা ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। পুরানো ফ্ল্যাট কেনা-বেচার সুযোগ রাখা হয়নি বলা হয়। আবাসন খান অর্থনীতিতে ১৫ শতাংশ অবদান রাখলেও বাজেটে অনেক প্রস্তাবের মধ্যে কোনটিরই প্রতিফলন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। লিফট আমদানিতে একলাফে ১৯ শতাংশ কর বৃদ্ধি করায় তা ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ফ্ল্যাটের দামে আরো বাড়বে বলে জানানো হয়। অন্যদিকে ইস্পাতের কাচঁমালের প্রতি টন বিলেটের ওপর ২০০ টাকা ও রডে ২০০ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) বাড়ানো হয়েছে। ফলে রডের দাম আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হয়।
তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের তার-এ বিদ্যমান শুল্ক ৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পাইপ এর ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে জিআই ফিটিংস এর বিপরীতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। টিউব, টেল্টস এর ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এলুমিনিয়ামে ফুয়েলের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত ছিল না। কিন্তু ঘোষিত বাজেটে এটার উপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রতি বর্গফুটে গ্রাহকদের বাড়তি ১ হাজার কারা ব্যয় বাড়বে বলে জানানো হয়।
সরকারের এক যুগে বাজেট ৬গুণ হওয়ায় প্রশংসা করা হলেও কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করলে আয় বাড়বে কীভাবে এমন প্রশ্রে কৌশলী জবাবে করের বোঝা গ্রাহকের ওপরই বর্তায় বলে জানান রিহ্যাব প্রসিডেন্ট। নানা করারোপ ও নীতি সহায়তার অভাবে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের যোগান দেওয়া এ খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পতিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব প্রড়ার আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা। যা প্রবৃদ্ধি অর্জনে ঝুঁকি তৈরি করবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।









