ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এসএমই মার্কেটের ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে গতকাল সোমবার। এক দিনের ব্যবধানে ১৯৭ পয়েন্ট বেড়ে এদিন এসএমই সূচক দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩০ পয়েন্টে। এদিন লেনদেন হয়েছে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। যা এসএমই মার্কেটের সব্বোর্চ্চ লেনদেন। এদিন এসএমই মার্কেটের উত্থানের সব শেয়ার হল্টেড হয়ে পড়ে। ফলে কোন বিক্রেতা ছিল না।
অপরদিকে লেনদেন মন্দায় ডুবেছে দেশের পুঁজিবাজার। এদিন ডিএসইর লেনদেন পরিমান কমে ৬ শত কোটি টাকা ঘরে আসে। এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেন পরিমাণ কমে ১৪ কোটি টাকা ঘরে আসে। এদিন ৭৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দরে পতন হয়েছে। এদিন দুই স্টকে কমেছে সব ধরনের সূচকও।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, এদিন ( সোমবার) ডিএসইর লেনদেন পরিমাণ কমে ৬ শত কোটি টাকার ঘরে চলে আসে। যদিও আগের কার্যদিবসে রবিবারের লেনদেন ছিল ৮ শত কোটি টাকার ঘরে। গত বৃহস্পতিবারের লেনদেন ছিল এগারো শত কোটি টাকার ঘরে। অপরদিকে এদিন সিএসইর লেনদেন পরিমাণ কমে ১৪ কোটি ঘরে চলে আসে। আগের কার্যদিবসে রবিবারের লেনদেন ছিল ১৮ কোটি টাকার ঘরে। গত বৃহস্পতিবারের লেনদেন ছিল ৬১ কোটি টাকার ঘরে।
হঠাৎ করেই চলতি বছরের গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে চলে এসেছিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাজার কোটি টাকায় লেনদেন ওঠলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। পরের কার্যদিবস থেকে ফের হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছিল। লেনদেন কমে ৬ শত কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছিল। সেখানে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১০ মার্চ হাজার কোটি টাকা ঘরে চলে এসেছিল। এরপরের দিন লেনদেন ফের হাজার কোটি টাকার নিচে এসেছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৫ মার্চ হাজার কোটি টাকার ঘরে লেনদেন ফিরে।
পরের দিনে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। ফের লেনদেন ৮ শত কোটি টাকার ঘরে অবস্থান ছিল। এরপর দুই কার্যদিবস (সোমবার ও মঙ্গলবার) লেনদেন ৯ শত কোটি টাকার ঘরে এসেছিল। সেই লেনদেন বুধবার ৮ শত কোটি টাকার ঘরে অবস্থান চলে এসেছিল। সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার লেনদেন এগারশত ঘরে চলে এসেছিল। গত রবিবার কমে লেনদেন ৮ শত ঘরে চলে এসেছিল। সেখান থেকে সোমবার লেনদেন কমে ৬ শত ঘরে চলে এসেছে। লেনদেন এধরনের কমাকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে, পুঁজিবাজারে এসএমই প্লাটফর্মে লেনদেন সহজতর করতে বিনিয়োগকারীদের কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন জটিলতা সমাধান করার ঘোষণা দেয় ২৮ মার্চ (সোমবার)। ডিএসই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার ঘোষণার পরের তিন কার্যদিবস এসএমই মার্কেট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ছে। ঘোষণার কারণে গত মঙ্গলবার বা ২৯ মার্চ দশটির মধ্যে আট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে। গত বুধবার আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে। গত বৃহস্পতিবারে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে। কিন্তু রবিবার সেই লেনদেন বৃদ্ধির ছন্দ পতন হয়।
গত রবিবার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে। সেখান থেকে ফের গতকাল সোমবার নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে। এছাড়া গত মঙ্গলবার বা ২৮ মার্চ মূল্যসূচক বেড়েছিল ১০ শতাংশ। লেনদেন হয়েছিল ৫ কোটি ২০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। গত বুধবার মূল্যসূচক বেড়েছিল ৭ শতাংশ। লেনদেন হয়েছিল ৬ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার মূল্যসূচক বেড়েছে ১৯ শতাংশ। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। গত রবিবার মূল্যসূচক কমেছে দশমিক ১৭ শতাংশ। লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। গতকাল রবিবার মূল্যসূচক বেড়েছে ১৭ শতাংশ। আগের দিনের ১ হাজার ১৩৩ পয়েন্টের সূচক এদিন ১ হাজার ৩৩০ পয়েন্টে উঠে আসে। লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
এদিন এসএমই মার্কেটের জন্য নির্ধারিত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের মধ্যে নিয়ালকো অ্যালয়েজের ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া কৃষিবিদ ফিডের ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ওরিজা অ্যাগ্রোর ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মামুন অ্যাগ্রোর ১৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, এপেক্স ওয়েভিংয়ের ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মোস্তফা মেটালের ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোর ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজের ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও বেঙ্গল বিস্কুটের ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ দর বেড়েছে। বাকি হিমাদ্রির বিক্রেতা না থাকায় দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দুই স্টকে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন (সোমবার) ১৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ১২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং সিএসইর ১৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ৭৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে।
এদিন (সোমবার) ডিএসইতে ভ্রমন অবসর খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন সিরামিক, সিমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, নন ব্যাংক আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, আইটি, পাট, বিবিধ, ওযুধ রসায়ন, চামড়া এবং টেলিকম খাতের অধিকাংশ কোম্পিানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। অপরদিকে এদিন ব্যাংক,ফান্ড, পেপার, সেবা আবাসন এবং বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার উত্থান পতনে মিশ্রাবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরের এ ধরনের কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৬২০কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবস রবিবার ৮৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। রবিবার লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ২৯৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৯টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭১৮ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ২৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৭১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৬২ দশমিক ৭১ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে আইপিডিসি শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে আইপিডিসির ৫০ কোটি ৮৯ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভিএফএস থ্রেড ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, নাহি এ্যালুমিনিয়াম ১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা, বিডি ল্যাম্পস ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা, জেনেক্স ইনফোসিস ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, ইয়াকিন পলিমার ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ফু-ওয়াং ৮ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
অপরদিকে সিএসইতে সোমবার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবস রবিবার লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৮টির, কমেছে ১৯৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৭টির।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২৪ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭০০ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৩০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সিএসসিএক্স সূচক ৭৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৫৬ দশমিক ১৫ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৯৯ দশমিক ২৮ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৮১৮ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৪৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে বেক্সিমকো শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে সিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন সিএসইতে বেক্সিমকোর ৮৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে নাহি এ্যালুমিনিয়াম ৭৫ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৬৬ লাখ টাকা, আইপিডিসি ৬৬ লাখ টাকা, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স ৫১ কোটি টাকা, ঢাকা ডায়িং ৪৭ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৪৬ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪৬ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৪৬ লাক টাকা এবং রবি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









