ডিএসইতে বিক্রির চাপে ৮৫ ভাগ কোম্পানির দরে পতন
পাট, পেপার, টেলিকম ও সেবায় শতভাগ দর পতন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন কমে ১১শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। এদিন ক্রেতার চেয়ে শেয়ার বিক্রেতার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। ফলে লেনদেন হাজার কোটির ওপরে থাকলেও ডিএসইতে সব ধরনের সূচক পতন হয়। বিক্রির চাপে এদিন ৮৫ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। সূচক পতনের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বিক্রির চাপে এদিন ৮৩ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন লেনদেন পরিমাণ কমেছে।
রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতনের কবলে। সেই পতন রোজায় আরো বেড়েছে। পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নীরবে কেঁদেছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় দীর্ঘদিন পর ঈদের আগের কয়েকদিন পুঁজিবাজার উত্থানে ছিল। সেই সময় লেনদেন, শেয়ার দরসহ সূচক চাঙ্গা ছিল। চাঙ্গায় শেয়ার লসে বিক্রয় করা থেকে বিরত ছিলেন অনেকেই। এ কারণে পুঁজিবাজারে ক্রয় চাপ বেড়েছিল, বিক্রয় চাপ কমেছিল। কিন্তু গত দুই কার্যদিবস তার উল্টো গতি ছিল পুঁজিবাজার। এদিন লেনদেন পরিমাণ হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকলে পতন হয় সব ধরনের সূচক। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর। পতনে এদিন পুঁজিবাজারে শেয়ারের বিক্রয় চাপ ব্যাপক হারে বাড়ে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৮২ দশমিক ৮৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সিএসইর ৮০ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং সিএসইর ১৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের কমা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে এদিন সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে পাট, পেপার, সেবা আবাসন এবং টেলিকম খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্ত্র, ওযুধ রসায়ন, নন ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, সিমেন্ট, সিরামিক, বিমা, আইটি, বিবিধ, ফান্ড এবং চামড়া খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। কমার একই চিত্র ছিল সিএসইতেও। দুই স্টকের এ ধরনের শেয়ারের দর হ্রাসকে অস্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে গতকাল বুধবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ৩২৩টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২১টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৩ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯১ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ১৩ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪২০ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৪১ পয়েন্টে।
এদিনে ডিএসইতে আরডি ফুডের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে আরডি ফুড ৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন এসিআই ফরমুলেশন ৭৭ কোটি ৫ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৪৭ কোটি ১২ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা, জেনেক্স ইনফোসিস ২৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, ইউনিক হোটেল ১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ও ইস্টার্ন হাউজিং ১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ওঠেছে বিডি ফাইন্যান্সের শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরডি ফুড ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এসিআই ফরমুলেশন ৪ দশমিক ২০ শতাংশ, বঙ্গজ ৩ দশমিক ২০ শতাংশ, সিভিও পেট্রোলিয়াম ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, পদ্মা লাইফ ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, জিকিউ বলপেন ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আমান ফিড ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যমুনা অয়েল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে দর কমার শীর্ষে ওঠেছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেএমআই হসপিটাল ৫ শতাংশ, জেমিনি সী ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পেপার প্রসেসিং ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, মনোস্পুল পেপার ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, জিল বাংলা সুগার ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ইউনিক হোটেল ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও ইস্টার্ন হাউজিং ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৪৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪০টির, কমেছে ২৪৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২০টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২০২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩২৯ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১০৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১১৯ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪২৯ দশমিক ২২ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৯৩০ দশমিক ২৫ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৫৯৮ দশমিক ৮১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২১৬ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।
সিএসইতে জেএমআই হসপিটাল ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাইনপুকুর সিরামিকস ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, আরডি ফুড ৮৯ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৭৭ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৭০ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৬৯ লাখ টাকা, এডভেন্ট ৪৯ লাখ টাকা, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ৪৮ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৪১ লাখ টাকা এবং ইউনিক হোটেল ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।









