শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি-র কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে। সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বন্ধকী শেয়ার বিধি বহির্ভূতভাবে আইডিলসি ইনভেস্টমেন্টে হস্তান্তরের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্ট্রাল ফার্মার দুই স্পন্সর-পরিচালক মনসুর আহমেদ এবং মোরশেদা আহমেদের মোট ২ কোটি ১৮ লাখ শেয়ার আইডিলসি ইনভেস্টমেন্টের নামে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে মনসুর আহমেদের ১ কোটি ৫১ লাখ এবং মোরশেদা আহমেদের ৬৭ লাখ শেয়ার রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানিটি 'জেড' ক্যাটাগরিতে থাকা এবং উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকা সত্ত্বেও ডিএসই এই হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে।
বিএসইসি-র মতে, 'জেড' ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া, যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত শেয়ার ৩০ শতাংশের নিচে, তাদের শেয়ার হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিএসই-র আগের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় এবার সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
বিষয়টি আরও ঘোলাটে হয় যখন আইডিলসি ইনভেস্টমেন্ট পরবর্তীতে আরও ৪৩.৯২ লাখ শেয়ার হস্তান্তরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সেন্ট্রাল ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনসুর আহমেদ বিএসইসি-র কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন যে, নিয়ম অমান্য করে এই শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "কমিশনের কাছে সঠিক বিচার না পেলে আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।"
আইডিলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবুল আহসান আহমেদ জানান, তারা সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের অনুমতি নিয়েই এই আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, ডিএসই-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারও দাবি করেছেন যে, আইন ও আদালতের আদেশ মেনেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফার্মায় উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে মাত্র ৭.৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬.৯৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮৫.৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার ৯ টাকায় লেনদেন শেষ হয়েছে।








