কনিকা আফরোজ এন্ড এসোসিয়েটসকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজির কারণে কনিকা আফরোজ এন্ড এসোসিয়েটস নামের সংস্থাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কারসাজিতে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তে বেরিয়ে আসে ডিআইটি কো-অপারেটিভ লিমিটেডের স্টক ব্রোকারেজের ক্লায়েন্ট কোড ৭০২২ থেকে সবচেয়ে বেশি শেয়ার বাই সেল হয়েছে। যার বিও হিসাব পরিচালনার অথোরাইজড ব্যক্তি আবুল খায়ের হিরো। আলোচিত সময়ে এ একাউন্ট থেকে এক কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৭টি শেয়ার কেনা হয় এবং বিক্রি করা হয় এক কোটি ২০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩১টি শেয়ার। বিগত ৫ মে- ২৪ মে ২০২১ পর্যন্ত সময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের মোট লেনদেনের ১৪.২২ শতাংশ।
এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে কাজী সাদিয়ার হাসানের নাম। তিনি আলোচিত আবুল খায়ের হিরোর স্ত্রী। ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ৩৮৯৮ কোড থেকে আলোচিত সময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৬৮টি শেয়ার কেনা হয় এবং ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ৬৪২টি শেয়ার বিক্রি করা হয়। যা মোট লেনদেনের ৯.২৪ শতাংশ। এ তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নামও।
প্রসঙ্গত চলতি বছরের ৬ জুলাই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ৫ মে-২৪ মে ২০২১ পর্যন্ত সময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির জন্য কনিকা আফরোজ এন্ড এসোসিয়েটস কে ৩ কোটি ৭৫ লাখ জরিমানা করা হয়। উল্লেখ্য কনিকা আফরোজ খায়রুল আবুল খায়ের হিরো’র বোন।
এবিষয়ে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।
বিএসইসির কাছে গত এক বছরে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অন্তত ২০টি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর বাইরে পাঠিয়েছে শতাধিক নিয়মিত সার্ভেল্যান্স প্রতিবেদন। একের পর এক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরও হিরোর কারসাজি বন্ধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এবার লোক দেখানো ফরচুন সুজ ও এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার কারসাজিতে আবুল খায়ের হিরো ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এই কারসাজিতে আবুল খায়ের হিরো, তার বাবা আবুল কালাম মাতবর, স্ত্রী কাহী সাদিয়া হাসান, বোন কনিকা আফরোজ, শ্যালক কাজী ফরিদ হাসান ও তার কোম্পানি ডিআইটি কো-অপারেটিভ জড়িত। তারা ফরচুন সুজ কারসাজিতে রিয়েলাইজড ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং আনরিয়েলাইজড ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা মুনাফা করেছে বলে ডিএসইর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার কারসাজিতে রিয়েলাইজড ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং আনরিয়েলাইজড ২৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে বলে ডিএসইর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডিএসই হিরো ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততায় ওই কোম্পানি দুটির শেয়ার কারসাজিতে ৯৪.৬৭ শতাংশ দর বৃদ্ধি দেখতে পায়। যা ২০২১ সালের ২০ মে থেকে ১৭ জুন এক তদন্তে পাওয়া যায়। এর আগে হিরো ও তার সহযোগিদের গ্রীন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের কারসাজিতে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন।
এনআরবিসির শেয়ার ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটা আমাদের ইনফোর্সমেন্ট বিভাগের কমিশনার ভালো বলতে পারবেন।’ তবে এ বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে বিশেষ অডিট চলছে। কেউ আইনের ব্যত্যয় ঘটালে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ সূত্রমতে, শেয়ার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের মধ্যে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নামও রয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার ২০ দিনের ব্যবধানে ( ৫ মে-২৪ মে২০২১) মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ লেনদেন করা হয়েছে।









