দেশের বাজারে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। নিম্নবিত্ত ক্রেতার নাগালের বাইরে সবজিও। রাজধানীর বাজারগুলোতে ঘুড়ে দেখা গেছে- সোনালি মুরগির কেজি লাগামহীন। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০–৪২০ টাকায়। আর ৩৫০ টাকার নিচে রুই মাছ কেনা যায় না। আকারে একটু বড় হলে রুই মাছের দাম হয় ৪০০ টাকার আশপাশে।
গত বছরের এই সময়ের তুলনায় তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ি মাছের দাম এখন বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দাম বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের।
সাধারণত সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচ পোষাতে এসব মাছ, মুরগি ও সবজি বেশি কেনেন। কিন্তু এসব নিত্যসামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। ফলে খরচ বাঁচাতে নানা জায়গায় কাটছাঁট করছেন তারা।
বিক্রেতারা জানান, বাজারে মুরগি ও মাছের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়েছেন। আর গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু হিসেবে বেশ কিছু সবজির দামও বাড়তি।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে সোনালি মুরগির এমন চড়া দাম রয়েছে। একপর্যায়ে ৪৫০ টাকা দামও উঠেছিল। গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানে পড়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক খামারি সোনালি মুরগি পালন কমিয়েছেন। এ ছাড়া রোগের আক্রমণেও অনেক মুরগি মারা যায়। ফলে বর্তমানে সোনালি মুরগির সরবরাহ–সংকট থেকে দাম বেড়েছে। ক্রেতারা অবশ্য এ যুক্তি মানছেন না।
মিরপুরের এক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করে সোনালি মুরগির দাম ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ–সংকটের সুযোগ নিয়ে অন্যায্যভাবে দাম বাড়িয়েছেন। তাদের কারসাজি ছাড়া একবারে এত দাম বাড়ার কথা নয়।
এছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা। আর চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।
এখন গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজি বাজারে ওঠা শুরু করেছে। চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি, ঢ্যাঁড়স প্রভৃতি এর মধ্যে অন্যতম।
বিক্রেতারা আরও জানান, সাধারণত এ সময়ে মৌসুমি সবজির দাম একটু বেশি থাকে। এসব সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। বাজারে চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে।
তাদের দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে তিন থেকে চার টাকা করে বাড়িয়েছে।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।









