চলতি বছরের প্রথম দুই সপ্তাহ বা ১০ কার্যদিবস পুঁজিবাজার উত্থানের দারুণ চমক দেখিয়েছে। হঠাৎ করেই যেন কারনবিহীন ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বেড়ে ওঠছে পুঁজিবাজার মূলধন। তাল মিলিয়ে চমকও দিচ্ছে লেনদেনও। ডিএসইর প্রধান সূচকও ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। এসব চমক কারনে মাত্র ১০ কার্যদিবসে মধ্যে পুঁজিবাজারে মূলধন বেড়েছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে ডিএসইর পুঁজিবাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। গত বছরের শেষ কার্যদিবসে (৩০ ডিসেম্বর) ছিল ৫ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই সময়ে ব্যবধানে ডিএসইর পুঁজিবাজার মূলধন বেড়েছে ২২ হাজার ৮০০ কোটি ৫৭ লাখ। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে সিএসইর পুঁজিবাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গত বছরের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এই সময়ের ব্যবধানে সিএসইর পুঁজিবাজার মূলধন বেড়েছে ২৪ হাজার ১৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) মূলধন বেড়েছে ৪৬ হাজার ৯৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
অধিকাংশ শেয়ার দর বাড়লে পুঁজিবাজার মূলধনও বাড়বে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপারে জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো অতিরিক্ত বৃদ্ধি যেমন ভালো লক্ষ্মণ না, তেমনি কমাও না। সব ক্ষেত্রেই বাড়া-কমার একটা সীমা থাকে। যখন সেই সীমা অতিক্রম করে, সেই ক্ষেত্রে সবার মনে অনেকগুলোর প্রশ্ন তৈরি হয়। এসব প্রশ্নের পরিষ্কার ও যৌক্তিক জবাব জানা থাকলে, সেটা অন্য কথা। না জানা থাকলে সেই ক্ষেত্রে সবাই বিযয়টি ভালো চোখে দেখে না। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পুঁজিবাজরের দুই স্টকের শেয়ার দর আবারোও বেড়ে মূলধন বেড়েছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূলধন বেড়েছে ডিএসইর প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং সিএসইর প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এ ধরনের বৃদ্ধি স্বাভাবিক নিয়মে হয়েছে এমনটি মানতে চাচ্ছে না বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশিষ্টরা।
তারা বলছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে সূচকসহ লেনদেন উত্থান ক্ষেত্রে দারুণ চমক দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার। কেন দেখাচ্ছে তার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। হতে পারে গত বছরের শেষদিকের মন্দা পুঁজিবাজার থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে তারাই নতুন বছরে পুঁজিবাজার উত্থানের ঝলক দেখাচ্ছে। উত্থান পুঁজিবাজারে অতি দামে শেয়ার ক্রয় করা থেকে বিরত সহ লোকসানে শেয়ার বিক্রয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশিষ্টরা।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘পুঁজিবাজার মুলধন ৩ লাখ কোটি টাকা থেকে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অনেকে এই বাজারকে ওভার-ভ্যালুড বলে মনে করছেন, যা ঠিক নয়।’
বিদায়ী সপ্তাহে উভয় পুঁজিবাজারের সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এক সপ্তাহে ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৯ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৭ দশমিক ২৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই৩০ সূচক ১৩ দশমিক ২২ পয়েন্ট ও শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২৯ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৬১৬ দশমিক ৩০ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৫০১ দশমিক ৭১ পয়েন্টে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫০ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৪৫ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই৫০ সূচক ২ দশমিক ২৭ পয়েন্ট, সিএসই৩০ সূচক ২২৯ দশমিক ২৫ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৩১ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ১৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৪ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৪৬১ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩৪২ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৭৮ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৮৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৬ হাজার ৪৮৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অপরদিক গেল সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৬২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ১৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৮৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গেল সপ্তাহে দুই পুঁজিবাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। এই সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৪৬টির, দর কমেছে ২১৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির কোম্পানির। লেদনের হয়নি পাঁচ কোম্পানির শেয়ার। সপ্তাহে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৪৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১২৪টির, দর কমেছে ২০৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির কোম্পানির।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৫ হাজার ৭২৭ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। ওই সময় ‘বি’ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৪১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ‘এন’ ক্যাটাগরির ৩৭৮ কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৬২ কোটি ৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। ওই সপ্তাহে সিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ২২৯ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। ওই সময় ‘বি’ ক্যাটাগরির ৮০ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৫৮৯ টাকা, ‘এন’ ক্যাটাগরির ৩০ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার ৯২ টাকা ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১ কোটি ৮৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৫ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









