সব ধরনের সূচক উত্থান
লেনদেন
- বেড়েছে বেশির ভাগ কোম্পানির দর
- ডিএসইর লেনদেন সাড়ে ১১শ কোটিতে
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল বুধবার সব ধরনের সূচকের উত্থান হয়েছে। বেড়েছে দুই স্টকের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। এদিন ডিএসইর লেনদেন সাড়ে ১১শ কোটি টাকার ঘরের অবস্থান করেছে। বিভিন্ন মহলের শত চেষ্টায় পুঁজিবাজারে এ ধরনের উত্থান বলে জানান মতিঝিলের বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ কর্মকর্তারা।
স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই (রবিবার) পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছিল। রবিবারের মতো পরেরদিন সোমবারে পুঁজিবাজার উত্থান ছিল। এরপরের তিন কার্যদিবস (মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার) উত্থান ধারা অব্যাহত ছিল। উত্থান কারনে স্বস্তিতে ছিলো বিনিয়োগকারীরা। সেই স্বস্তি পরের চার কার্যদিবসের মন্দায় পুঁজিবাজারের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। টানা পতনে ক্রেতার সংখ্যা বহুগুনে হারায়। এরপর গত তিন কার্যদিবস উত্থানে ফিরে আসলো পুঁজিবাজার।
আরও জানা যায়, গতকাল বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল হাজার ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৫৬টি বা এবং কমেছে ১৩২টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ৯২টির।
এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৪১ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২০ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট এবং ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন বেক্সিমকো ৮১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফরচুন সুজ ৫৫ কোটি ১২ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৫৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, মালেক স্পিনিং ৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা, কেডিএস এক্সেসরিজ ২৪ কোটি ৯ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ২৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ২২ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং অলিম্পিক ১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে সিএসইতে গতকাল বুধবার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা শেয়ার। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার ১৮ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১১৬টি, কমেছে ৮৬টি এবং পরিবর্তন হয়নি ৮২টির।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫৬ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৬৯ দশমিক ৯২ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৩ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ২২ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৩৪ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট এবং সিএসইআই সূচক ৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৫২ দশমিক ১১ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৫ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট এবং ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে কেডিএস এক্সেসরিজের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন কেডিএস এক্সেসরিজ ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৬৫ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৬৫ লাখ টাকা, খান ব্রাদার্স পিপি ৫৮ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৫৭ লাখ টাকা, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ৫৭ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৪৮ লাখ এবং ফরচুন সুজ ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
গত ২৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণের পর থেকেই পুঁজিবাজার উত্থানমুখী ছিলো জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, এর ফলে টানা পাঁচ কার্যদিবস পুঁজিবাজারের সূচক বাড়ে। লেনদেনসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে। এর সঙ্গে যোগ হলো ২ আগস্ট পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হবে ক্রয়মূল্যের সিদ্ধান্ত। খবরটির পর লেনদেন ১২শ কোটি টাকার ঘরে চলে আসে। সব মিলিয়ে উত্থানে ছিলো পুঁজিবাজার।
কিন্তু গত চার কার্যদিবস (রবিবার ও বৃহস্পতিবার) ফের ফিরে আসলো উল্টোমুখীতে। মন্দায় তলিয়ে গিয়েছিলো পুঁজিবাজার। পতনের কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের বৃদ্ধির দিকেই আঙ্গুল তুললেন সবাই। সেই পতন পথ থেকে বেরিয়ে গত তিন কার্যদিবস ফের উত্থানে ফিরলো পুঁজিবাজার। উত্থানের কারণে লেনদেন সাড়ে ১১শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।









