বিদ্যুৎ খাতে ঋণের বিশাল বোঝা থাকা সত্ত্বেও সরকার এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আজ সচিবালয়ে এনার্জি রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরবি) নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আগে লোডশেডিং ছিল, এখন বিদ্যুৎ আছে—এটা সত্য। কিন্তু দেশের কাঁধে ঋণের এক বিশাল পাহাড় রেখে যাওয়া হয়েছে। ঋণের সাগরে ডুবে থাকার চেয়ে সাময়িক কষ্ট সহ্য করাও ভালো।" তবে তিনি এখনই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করতে চান না বলে জানান। তিনি আরও যোগ করেন, "আমি বলিনি যে দাম বাড়বে না, তবে আমি দাম বাড়াতে চাই না। যদি আমরা সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি, তবে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়ে যাবে।"
প্রতিমন্ত্রীর মতে, আর্থিক চাপ কমানোর প্রধান হাতিয়ার হলো সিস্টেম লস কমানো। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এটি ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। তবে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সিস্টেম লস কমাতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-সহ দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর চাপ আসতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালের নীতিমালায় সরকারি খাতে ৬৫ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ৩৫ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমেছে এবং দায়ের পরিমাণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের (আইপিপি) সাথে 'উইন-উইন' বা উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক সমঝোতার পরিকল্পনা করছে সরকার।
দেশে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে টুকু বলেন, এটি অব্যবস্থাপনার চেয়েও অনুসন্ধান ও উৎপাদনে ঘাটতির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো কূপ খনন করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, "গ্যাস রাতারাতি পাওয়া সম্ভব নয়, এর জন্য সময় প্রয়োজন।" সরকার এখন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে এবং নিজস্ব রিগ কেনাসহ দক্ষ জনবল তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।









