পুঁজিবাজারে সূচক--
- অর্ধেকে নামলো ডিএসইর লেনদেন
- নেতিবাচক প্রভাব ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই কম। তাই যুদ্ধের প্রভাবে সূচক পতন অযৌক্তিক: বিএসইসি কমিশনার
ডিএসইর লেনদেন কমে হয়েছে ৬৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গত বছরের কাছাকাছি সময়ে লেনদেন হয়েছিল ৬০২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবারের লেনদেন দশ মাস ১৪ দিনের মধ্যে সবনিম্ন। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৬৫৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।
ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর ছয় কার্যদিবস পার করলো দেশের পুঁজিবাজার। এর মধ্যেই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূচক পতনে কেটেছে চার কার্যদিবস। এসময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫২ পয়েন্ট এবং চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৭৪২ পয়েন্ট কমেছে। এসময় ডিএসইর হাজার কোটি টাকার ওপরের লেনদেন বর্তমানে ছয়শ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই ধরনের লেনদেনসহ সূচক কমে যাওয়াকে অশুভ আলামত হিসেবে দেখছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
যুদ্ধের প্রভাবে সূচক পতন অযৌক্তিক মন্তব্যে করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই কম জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে এর কম প্রভাব পড়বে। যুদ্ধের প্রভাবে সূচক পতন, তা মোটেও ঠিক না। একই প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন জানান, যুদ্ধ হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।
যুদ্ধ শুরুর পর দুই কার্যদিবস (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) সূচক ডিএসইএক্স ২৭২ পয়েন্ট কমেছিল। অপরদিকে সূচক সিএএসপিআই কমেছিল ৮১৩ পয়েন্ট। কমার পর তখন পুঁজিবাজার রেগুলেটররা বলেছিল, যুদ্ধের প্রভাবে সূচক পতন অযৌক্তিক। যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না পুঁজিবাজারের।
এসব আশার বাণীতে এরপরের দুই কার্যদিবস ( সোমবার ও মঙ্গলবার) সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছিল ৭৭ পয়েন্ট। সিএএসপিআই বেড়েছিল ২১৯ পয়েন্ট। কিন্তু সূচকের সেই বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলো না দুই স্টক। উত্থানের পর দুই কার্যদিবস (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দুই স্টকে ফের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়। এসময় ডিএসইএক্স কমেছে ৫৭ পয়েন্ট এবং সিএএসপিআই ১৪৭ পয়েন্ট।
এসময় ডিএসইর লেনদেন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৬৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর আগে গত বছরের ১৮ এপ্রিল লেনদেন হয়েছিল ৬০২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবারের লেনদেন গত দশ মাস ১৪ দিনের মধ্যে সবনিম্ন ছিল। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৬৫৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।
গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৭৩০ কোটি এক লাখ টাকা। চলতি বছরের শুরু থেকেই ডিএসইর লেনদেন বারশ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ঘরে ছিল। চলতি বছরের বেশকিছু দিন লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। গত বছরের এই লেনদেন দুই-আড়াই হাজার কোটি লেনদেন হয়েছিল। হঠাৎ করেই চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে চলে এসেছে।
এরপর বুধবার থেকে সেই লেনদেন ৬ শত কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এসময় কমেছে সিএসইর লেনদেনও। এই ধরনের লেনদেন কমে যাওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছেন বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। ডিএসই এবং সিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ কমেছে। পুঁজিবাজারে (দুই স্টক) এদিন ৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে সোনালি পেপারের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। অপরদিকে সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে ডিএসইতে সোনালি পেপার এবং সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৬৩ কোটি ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৪৩ কোটি ৯ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৩৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফ ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়াটেক ৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংক ৮ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
এছাড়া এদিন সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংকে ৩ কোটি ৪ লাখ ২০ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিডি থাই বিডি ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, জিবিবি পাওয়ার ৮১ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ৭৭ লাখ টাকা, কেয়া কসমেটিকস ৬৪ লাখ টাকা, আরডি ফুড ৬১ লাখ টাকা, রবি ৬০ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৫৮ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৫৫ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
ডিএসইতে এদিন লেনদেন হওয়া ৩৭৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৬৪টির, কমেছে ১৪০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৭৫টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৫২ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৬২ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৪১ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে।
ডিএসইতে এদিনে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ওঠে এসেছে হাওয়া অয়েলের শেয়ার দর। এরপর শীর্ষে ওঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর রয়েছে- সুহৃদ, বিডি থাই ফুড, জাহিন স্পিনিং, একমি পেস্টিসাইড, কেপিসিএল, তমিজউদ্দিন, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্স। অপরদিকে, দর কমার শীর্ষে ওঠে এসেছে এনসিসিবি ফান্ড প্রথম। এরপর কমার শীর্ষে ওঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর রয়েছে- এওএল, ইয়াকিন পলিমার, জিল বাংলা সুগার, ক্রাউন সিমেন্ট, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, তাক্কাফুল ইন্স্যুরেন্স, বিআইএফসি এবং ইমাম বাটন।
অপরদিকে এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১১৩টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫১টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৭২ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ২ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সিএসসিএক্স সূচক ১৬ দশমিক ৯০ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৩ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৯১৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৭৪৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২১৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে।









