- ৬৭ ভাগ কোম্পানির দর পতন, উত্থান ২৩
- লেনদেন সেরা বেক্সিমকো
পুঁজিবাজারে গতকাল লেনদেন শুরুতে বানোয়াট তথ্য ছড়ায়, সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। সোমবার সকালে খবরটি ছড়িয়ে গেলে লেনদেনের শুরুর দিকে শেয়ার বিক্রির চাপ ব্যাপক বাড়ে। অনেকেই লসে শেয়ার বিক্রি করে। এ কারনে পুঁজিবাজার পতন বড় হতে দেখা যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা ১০ শতাংশ বিষয়টি বানোয়াট, সবার কাছে পরিস্কার হলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। বেলা সাড়ে ১১টা ২৫ মিনিট পর বড় পতন থেকে রক্ষা পায় পুঁজিবাজার।
ওই সময় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশও (আইসিবি) শেয়ার কিনে সাপোর্ট দেওয়া শুরু করে। এদিন দশ-বারো বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ায় বড় ধরনের দরপতন থেকে রক্ষা পায় পুঁজিবাজার এমনটিই মনে করছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।
গত দুই কার্যদিবস ধরে লেনদেন মন্দা, সূচক পতন ও অধিকাংশ কোম্পানির দর কমে যাওয়া অনেকটাই অস্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারে উত্থানের সুবাতাস ছিল। কিন্তু দিন বদলে সেই উত্থান হারিয়ে পতনে চলে এসেছে। কারণবিহীন এ ধরনের মন্দা অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
মতিঝিল পাড়ায় সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দর আরো পতন হবে এমন কথা চালাচালি হচ্ছে জানিয়ে তারা বলছেন, ওইসব কোম্পানিগুলো শেয়ার দর, কেন পতন হবে তার কারন দর্শাতে পারছে না। তাই অভিলম্বে এসব কথা চালাচালি বন্ধ করতে হবে পুঁজিবাজারের রেগুলেটরদের। নয়লে সামনে পুঁজিবাজারের অবস্থা আরো খারাপ হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হাজার কোটি টাকার লেনদেন কিছুতেই ধরে রাখতে পারছে না। গত মঙ্গলবার হাজার কোটি টাকার ঘরের লেনদেন ছিটকে পড়ে গত বুধবার ৮’শত কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছিল। সেখান থেকে দুই কার্যদিবস ধরে লেনদেন ৬’শত কোটি টাকা ঘরে অবস্থান করেছে। অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন গত দুই কার্যদিবস অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে। এসময় কমে সিএসইর লেনদেন ১৭ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে।
এদিন দুই স্টকের ৬৭ ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। উভয় স্টকের প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স ও সিএএসপিআই) পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজারে (দুই স্টক) এদিন (সোমবার) ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৬৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে২৩ দশমিক ২২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং সিএসইর ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়।
এদিন সিমেন্ট, সিরামিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, নন ব্যাংকিং আর্থিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, আইটি, পাট, বিবিধ, ফান্ড, টেলিকম বস্ত্র এবং ভ্রমন অবসর খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন সেবা আবাসন খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার উত্থান হয়েছে। এদিন চামড়া এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার উত্থান হয়েছে। এছাড়া অন্য খাতগুলোর উত্থান-পতন মিশ্রাবস্থায় রয়েছে।
ডিএসইতে সোমবার লেনদেন হয়েছে ৬৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৬১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। এই লেনদেন লেনদেন গত ১১ মাস ২ দিন বা ২২২ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিলে এদিনের চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল। ১৮ এপ্রিলে লেনদেন হয়েছিল ৬০২ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১০০টির বা ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, কমেছে ২৪২টির বা ৬৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৮টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯৮ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্টে।
এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৩৬ দশমিক ২৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৪১ দশমিক ৫১ পয়েন্টে।
সিএসইতে রবিবার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস রবিবার লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৭টির বা ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ, কমেছে ২৪২টির বা ৬৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ২৮টির।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬১৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে। সিএসই-৫০ সূচক দশমিক ৯০ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ২৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ২ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৪৯ দশমিক ২৯ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৭৬৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২২৪ দশমিক ৩০ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৪ দশমিক ৭১ পয়েন্টে।
মন্দার এদিনেও দুই স্টকে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে দুই স্টকে বেক্সিমকোর শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন লেনদেন শেষে বেক্সিমকো শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫৫ টাকা। এদিন সিএসইতে বেক্সিমকো ৮১ লাখ ৯০ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন বেক্সিমকোর লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫৪ দশমিক ৭০ টাকা।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ড্রাগন সোয়েটার ২৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, বিডি কম ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২২ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং সিলকো ফার্মা ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক ৮০ লাখ টাকা, রবি ৫৬ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৫২ লাখ টাকা এবং লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৫২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।









