ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস (ডিএসসিই)-এর ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলোচনায় ভারতের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রবীন্দ্র এন ভট্টাচার্য।
যত দিন যাচ্ছে ততই একদিকে যেমন বাড়ছে পরিবেশের দূষণের মাত্রা, তেমনি ঠিক অন্যদিকে বাড়ছে প্রাকৃতিক সম্পদের অর্বাচীন ব্যবহার। ওই পরিস্থিতিতে পরিবেশ দূষণ কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার রোধকল্পে নড়েচড়ে বসেছে সারা বিশ্ব, কিন্তু তার তুলনায় বাংলাদেশ যেন কোন তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যাচ্ছে। যার অর্থনৈতিক ক্ষতি অপূর্ণনীয়।প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে আর পরিবেশ দূষণরোধে পরিবেশ অর্থনীতি একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই লক্ষ আর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে 'ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১২ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো 'পরিবেশ অথর্নীতি'-তে একটি পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম শুরু করে। পরবর্তীতে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে 'পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতি'-তে প্রতিষ্ঠানটি স্নাতক পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই কার্যক্রমের আওতায় দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত পরিবেশ অর্থনীতিবিদগণ ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস-এ বিশেষ সেমিনার কিংবা মুক্ত আলোচনাতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। গত ১১ই মার্চ ২০২০-এ ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস- এর 'পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতি' প্রোগ্রাম এমনি এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট পরিবেশ অর্থনীতিবিদ এবং কোলকাতার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. রবীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য এবং বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইন্সটিটিউট- এর সাবেক মহাপরিচালক ড. ক্ষিরোদ চন্দ্র রায়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস- এর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতি বিভাগের সমন্বয়ক ড. এ কে এম নজরুল ইসলাম, ড. সালমা সুলতানসহ সকল শিক্ষকমণ্ডলী, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস-এর প্রশাসনের প্রধান অধ্যাপক শেখ একরামুল কবির এবং বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীগণ।
অধ্যাপক ভট্টাচার্য বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে চলেছি আমরা সবাই। এখনই এর নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে পৃথিবীকে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। কারণ, পরিবেশের সাথে একদিকে যেমন জড়িত আছে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, আর ঠিক তেমনি অন্যদিকে পরিবেশ আমাদের নিক্ষেপিত উচ্ছিষ্টগুলিকে পরিপাককরণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে থাকে। বাংলাদেশ আর ভারতের অনেক অভিন্ন সমস্যা যেমন এই অঞ্চলে সুন্দরবনসহ আরও অনেক বন দিনেদিনে উজার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, সুন্দরবনের উজারিকরণ যেভাবে চলছে তাতে সামনের দিনগুলিতে কোন বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়লেই লন্ধ ভন্ড হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ এবং ভারতের উপকূল অঞ্চলের অনেক বড় অংশ। এই পরিস্থিতে সুন্দরবনের অর্থনৈতিক গুরুত্ত্ব পরিমাপের মাধ্যমে এই বন রক্ষার্থে অনেক বড় ভুমিকা পালন করতে পারে পরিবেশ অর্থনীতিবীদরা।
অধ্যাপক ভট্টাচার্য আরও বলেন, বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ পরিবেশ দূষণ ও সম্পদ-এর যথাযথ ব্যবহারে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। এ জন্য প্রয়োজন পরিবেশ ও সম্পদ অর্থনীতির দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলা। সেই লক্ষ্য আর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতি বিষয়টি এই অঞ্চলের জন্য একটি অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইন্সটিটিউট- এর সাবেক মহাপরিচালক ড. ক্ষিরোদ চন্দ্র রায় মনে করেন যে, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস-এর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতি বিভাগটি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সুশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দেশের পরিবেশ রক্ষণ এবং অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধি অর্জনে আগামী দিনগুলিতে অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আনন্দবাজার/শাহী








