ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি বিদ্যালয়ে টিুবওয়েলের পানি পান করে ৬০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার শিতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মনে। খবরটি নিশ্চিত করেছেন হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মোহম্মদ আসাদুজ্জামান।
বিদ্যালয়ের পানি পান করার পর প্রথমে চার জন ও পরে আরও তিনজন হাসপাতালে আসেন পেট ব্যাথা ও বমির লক্ষণ নিয়ে। তাদের মাঝে তিনজন বেশি অসুস্থ্য। এ সাত জনের অসুস্থ্যতা দেখে মনে হয়েছে টিউবওয়েলের পানিতে খুব ভারি বিষ জাতীয় কিছু মেশানো হয়নি। তবে ছত্রাক নাশক কোন রাসায়নিক মিশ্রিত পানি এ ধরনের লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
আর এমও বলেন, আমরা পানি সংগ্রহ করেছি। তার নমুনা আগামীকাল ঢাকা পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য। তিনি বলেন, এ সাত জনের বাইরে যারা এসেছেন তারা আতঙ্কিত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। আমরা সকলের চিকিৎসা দিচ্ছি। ৬০ জনেই এখন শঙ্কামুক্ত।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া বলেন, পিপাসা লাগলে কয়েকজন বান্ধবী মিরে পানি পান করি। টিউবওয়েলের পানি পান করার পর থেকে পেট ব্যাথা করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ৩০ মিনিটের মধ্যে অসুস্থ্যতা বোধ করি। তখন স্কুল থেকে ব্যানে করে হাসপাতালে নেয়া হয় আমাদের।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাফুর রহমান বলেন, স্কুলে পিটির পর এক ক্লাস শেষে ছাত্রীরা পানি করার পর এ ঘটনা ঘটে। সে সময আমি স্কুলে ছিলামনা। স্কুলে ক্লাস বসিয়ে দিয়ে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিকে গিয়েছিলাম। এটি একটি ন্যাক্কার জনক ঞটনা দাবি করে তিনি জোর তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বেেলন প্রশাসনকে।
হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা বিকাল চারটায় বলেছেন স্কুলে টিউবওয়েলের পানি পান করে ৬ জনের মতো শিক্ষার্থী প্রথমে অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষকে টিউবওয়েলের পানি পান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং পুলিশ কে জানাতে বলেন। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন তারা শঙ্কা মুক্ত। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।।
হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কোন বিষ জাতীয় কিছু মেশানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমনটি জানিয়েছেন। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি।









