সুনামগঞ্জ জেলার ১১ উপজেলার ২৩৪টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪৬৯টি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৯ জন। অপরদিকে ঐতিহ্যবাহী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়েও ৫২ জন শিক্ষকের স্থলে আছেন মাত্র ৩০ জন। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় এ দুই সরকারি বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু এ দুই প্রতিষ্ঠানেই নয়, পুরো জেলার সবকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৩টি বিষয়কভিত্তিক পদের বিপরীতে ৪৬৯টি পদ শূন্য। এরমধ্যে বাংলা বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের ৩৩টি, ইংরেজি বিষয়ের ৩৪টি, গণিতে ১৭টি, আইসিটি বিষয়ে ৫৩টি, সামাজিক বিজ্ঞানে ১১টি, কৃষিতে ২৫টি পদ শূন্য। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভৌত বিজ্ঞানে ৫৬টি পদ, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের ৩৬টি পদ, লাইব্রেরি ও তথ্য বিজ্ঞানে ৩৮টি পদ, চারু-কারু বিষয়ে ৩টি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ২টি, নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ৭টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
অপরদিকে, এবতেদায়ি মৌলভীর ২৫টি ও সহকারী মৌলভীর ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি সহকারী মৌলভী ক্বারী পদ ৫টি, আরবি প্রভাষক ৬টি, প্রভাষক কম্পিউটার অপারেশন ১টি, এবতেদায়ি প্রধান ৮টি, এবতেদায়ি শিক্ষক ৪টি, জীববিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া আরও অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নিতে হয়। এতে করে কাঙ্খিত পাঠদান সম্ভব হয় না।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়েজুর রহমান বলেন, জেলার সুনামধন্য বিদ্যাপীঠে শিক্ষক সংকট থাকাটা খুবই হতাশার। আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও ছাত্রদের চাহিদামতো পাঠদান করতে পারছি না। এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। যদি চাহিদামত শিক্ষক না থাকে তাহলে এ ছাত্ররা কিভাবে শিখবে।
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাশহুদ চৌধুরী বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে এখানে শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে। ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ২৯ জন শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলায় মাধ্যমিকে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রæত এর সমাধান হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









