এইচএসসির ফল প্রকাশ
- পাশের হার ৯৫.২৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলো ১ লাখ ৮৯ হাজার
- সবাই পাস করেছে ১৯৩৪টি প্রতিষ্ঠানের
- এগিয়ে যশোর, পিছিয়ে চট্টগ্রাম
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন।
নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডে ১৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন। তাতে পাস করেছে ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন।
গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২৭ হাজার ৩৬২ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার শতকরা হার এবার ১৩ দশমিক ৭৯।
গতকাল রবিবার দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফল ঘোষণা করা হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ফলের সার্বিক বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন শুধু এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের গড় হার ৯৫ দশমিক ৫৭। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএম পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের (এইচএসসি), ৪ হাজার ৮৭২ জন মাদরাসা বোর্ডের ও ৫ হাজার ৭৭৫ জন কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থী। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়নি, স্বয়ংক্রিয় পাস দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৪০ হাজার ৬৮০ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৫ জন। পাস করেছে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ২৪২ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন।
মাদরাসা বোর্ড: মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ১৬৭ জন। সেখানে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৬ হাজার ৫৭৯ জন। পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৬৮ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৮৭২ জন।
কারিগরি বোর্ড: কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৭ জন। পাস করেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ জন।
পাসে এগিয়ে যশোর, পিছিয়ে চট্টগ্রাম: নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে সেরা হয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। আর পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। যশোরে পাসের হার ৯৮.১১ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৭৮ জন শিক্ষার্থী। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৯৬.২০ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছন ৫৯ হাজার ২৩৩ জন শিক্ষার্থী। বরিশালে পাসের হার ৯৫.৭৬ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৯৭১ জন। রাজশাহীতে পাসের হার ৯৭.২৯ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮০০। কুমিল্লায় পাসের হার ৯৭.৪৯ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৩ জন। দিনাজপুরে পাসের হার ৯২.৪৩ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৯ জন। সিলেটে পাসের হার ৯৪.৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩১ জন শিক্ষার্থী। চট্টগ্রামে পাসের হারে ৮৯.৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭২০ জন।
মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭২ জন শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭৫।
এবার ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ১৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ জন বিজ্ঞান, ৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৩২ জন মানবিক এবং ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫ জন বাণিজ্য বিভাগের। এছাড়া ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন মাদরাসা ও ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৩ জন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থী।
করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ অপেক্ষা করে গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে সব বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি। গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার দেড় মাস পর ফল প্রকাশ করা হলো।
পাস: চলতি বছর অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১ হাজার ৯৩৪টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৩৬টি। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ৩টি ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
ফেল: সারাদেশের ৫টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। করোনার কারণে ২০২০ সালে বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন কোনো শূন্যপাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। আর শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৩টি। সেই তুলনায় ২০২১ সালে শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমেছে ৭ হাজার ১২৯টি।
শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সবগুলোই সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের। মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডে শূন্যপাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। শূন্যপাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে দু’টি, দিনাজপুর বোর্ডে দু’টি ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।









