শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিরসনে বাস বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে এ খাত সম্পূর্ণ বরাদ্দশূণ্য রয়েছে। তবে বাজেটে শিক্ষার্থীদের বাসের খাত অবহেলিত থাকলেও চলতি অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) অর্থায়নে ভিন্ন খাতে ব্যবহারের জন্য ১টি মাইক্রোবাস, ১টি এসি মিনিবাস বাস এবং প্রকল্পের অর্থায়নে ২টি মাইক্রোবাস ক্রয় করা হবে। মোট ৫৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই বাজেট মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে পাশ হয়।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ৭৬ তম ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভায় এই বাজেট উপস্থাপিত হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান। গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির (এফসি) ৪৫তম সভায় প্রস্তাবিত বাজেটের সুপারিশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা ছিল ৪২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত আকারে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ কোটি টাকায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, এবারের বাজেটে আয়ের উৎস হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) অনুদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি ৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, বিমক হতে বরাদ্দ পাওয়া যাবে ৪২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে ৭ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা।
আরো উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও পণ্য ও সেবা বাবদ সহায়তা ১৩৭৪.৫০ লক্ষ টাকা, পেনশন ও অবসর সুবিধা বাবদ ০২.০০ লক্ষ টাকা, গবেষনা অনুদান ১২০.০০ লক্ষ টাকা, অন্যান্য অনুদান বাবদ ২.০০ লক্ষ টাকা ও মূলধন অনুদান ৬৬২.০০ লক্ষ টাকা রাজস্ব (আবর্তক ও মূলধন) বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নতুন বাজেটে শিক্ষার্থীদের বাস ক্রয়ের বিষয়টি না থাকার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড.মো.আবু তাহের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, "নতুন বাজেটে শিক্ষার্থীদের বাসের কথা এই জন্য নেই যে, আমাদের প্রকল্পের আন্ডারে ৫ টি বাস আছে। এরমধ্যে ৩ টি বাস ক্রয় প্রক্রিয়ায় আছে যা আগামী ১ মাসের মাঝেই ক্যাম্পাসে চলে আসবে এবং আর ২টি বাস আগামী জুনের মাঝে ২য় ধাপে চলে আসবে। বিআরটিসি থেকে অর্থমন্ত্রীর সুপারিশসহ আর ২টি বাস পার্চু করার চেষ্টা করতেছি। আর জনতা ব্যাংক থেকে আমরা আরও একটি বাস পেতে পারি। তাই আশা করা যায় শিক্ষার্থীদের বাসের সমস্যা এতে অনেকটাই লাঘব হবে।"
আনন্দবাজার/শহক









