দেশের অন্যতম প্রাচীন উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চলতি বছরের জুলাইয়ে ১০২ বছরে পা রেখেছে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের ইতিহাসে অসামান্য অবদান রেখে চললেও গবেষণায় রয়েছে অনেক পিছিয়ে। শত বছর অতিক্রম করলেও আজ পর্যন্ত বিশ্ব দরবারে নজর কাড়ার মতো গবেষণা ও আবিষ্কার নেই। যে কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে একেবারে তলানীতে চলে গেছে।
তবে গবেষণা আর আবিষ্কারের সেই বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাতে নিয়েছে নানা ধরনের প্রকল্প; পেয়েছে সুফলও। এগিয়ে এসেছে আন্তার্জাতিক র্যাংকিংয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘গবেষণা ও প্রকাশনা’ মেলার আয়োজন করছে। যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও প্রথম। আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুদিনব্যপী এ 'গবেষণা ও প্রকাশনা' মেলা অনুষ্ঠিত হবে। গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুম এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। মেলাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
উপাচার্য বলেন, শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গবেষণা ও প্রকাশনা মেলা’। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, গবেষণা সেন্টারের উদ্ভাবন, গেবষণা ও প্রকাশনাসমূহ তুলে ধরা হবে। একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রকাশনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ।
মেলায় অনুষদসমূহের জন্য ১০টি, ইনস্টিটিউটসমূহের জন্য ১টি, প্রকাশনা সংস্থার জন্য ১টি এবং গবেষণা কেন্দ্রসমূহের জন্য ১টিসহ মোট ১০টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। সঙ্গে ১টি কেন্দ্রীয় মঞ্চও থাকবে। এছাড়া, মেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত প্রকাশনাসহ উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ (যেমন: গ্রন্থ, জার্নালের বিশেষ সংখ্যা, গবেষণা প্রকল্প, পোস্টার, ফ্লায়ার, ব্রুশিয়ার) প্রদর্শন ও উপস্থাপন করা হবে।
প্রদর্শনীতে ৫৫টি গ্রন্থ, ২৬টি বিশেষ জার্নাল, ২১৬টি গবেষণা প্রজেক্ট, ৬২৪টি পোস্টার এবং ৮৬টি ফ্লাইয়ার অথবা ব্রুশিয়ার স্থান পাবে। মেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলামনাই এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং সেন্টার অংশগ্রহণ করবে এবং প্রত্যেকের উপস্থাপনা থাকবে। মেলা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামীকাল ২২ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে বিকেল ৩টায় কলা, বিজ্ঞান, আইন, বিজনেস স্টাডিজ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পৃথক উপস্থাপনা থাকবে।
অন্যদিকে ২৩ অক্টোবর সমাপনী দিনে সকাল ১০টায় জীববিজ্ঞান, ফার্মেসী, আর্থ এন্ড এনভারমেন্টাল সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি এবং চারুকলা অনুষদের পৃথক উপস্থাপনা থাকবে। এছাড়া সকল ইনস্টিটিউটের পক্ষে ১টি এবং গবেষণা কেন্দ্র অথবা ব্যুরো'র পক্ষে ১টি উপস্থাপনা থাকবে। প্রত্যেক অনুষদের প্যাভিলিয়নের সাথে অনুষদভুক্ত বিভাগসমূহের ১টি করে স্টল এবং ইনস্টিটিউটের প্যাভিলিয়নের সাথে প্রত্যেক ইনস্টিটিউটের ১টি করে স্টল থাকবে। গবেষণা মেলায় দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পানীয় ও খাবারের স্টল থাকবে।
আরও বলা হয়, মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সম্মানীয় অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে কবিতা, রচনা ও ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা এবং শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত প্রত্যেক জার্নালের বিশেষ সংখ্যার শ্রেষ্ঠ আর্টিক্যাল লেখককে সনদ, ক্রেস্ট ও প্রাইজ মানি প্রদান করা হবে।
এছাড়া প্রত্যেক অনুষদ, ইনস্টিটিউট এবং সেন্টার কর্তৃক উপস্থাপিত পোস্টার সমূহের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পোস্টার উপস্থাপনকারীকেও পুরস্কার দেওয়া হবে।
সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে উপাচার্য বলেন, গবেষণা মেলায় সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেঞ্জার ইউনিটের শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য খন্দকার মোকাররম হোসেন বিজ্ঞান ভবন ও সায়েন্স এ্যানেক্স ভবন প্রাঙ্গণ নির্ধারণ করা হয়। উপাচার্য বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মেলায় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মূল গেইট দিয়ে প্রবেশ এবং সুইমিং পুল সংলগ্ন গেইট দিয়ে প্রস্থান করতে হবে। কোন যানবাহন ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না।









