মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার মাসেও থেমে নেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের অভ্যান্তরীণ সংঘর্ষ। পূর্ব শত্রুতা ও কথাকাটির মতো তুচ্ছ ঘটনার জেরে নিজেদের মধ্যে গেল সপ্তাহে অন্তত দশবার সংঘর্ষের জড়িয়েছে তারা। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, হলের কক্ষ ও আসবাবপত্র। জানা যায়, সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দশ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে এভাবেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এমনকি ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছে জিম্মি হয়ে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া নেতা-কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) মধ্য-রাতে সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ । এরপর থেকে আবারও অস্তিতিশীল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বিবদমান পক্ষগুলো হলো; সিক্সটি নাইন, কনকর্ড, বিজয় এবং সিএফসি। সিক্সটি নাইন পক্ষের নেতৃৃত্বে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু , সিএফসির পক্ষের নেতৃত্বে আাছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল , কনকর্ড পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক এবং বিজয় গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহম্মদ ইলিয়াস। এদিকে সিক্সটি নাইন এবং কনকর্ড গ্রুপ চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী এবং বিজয় ও সিএফসি পক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চেীধুরী নওফেলের অনুসারী হিসাবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। জানা যায় , গত রবিবার (১ মার্চ) একাউন্টিং বিভাগের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের নেতৃত্ব নির্ধারন নিয়ে সিক্সটি নাইনের তিনজন কর্মীকে মারধর করে সিএফসি । এর জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় এ দুটি পক্ষ । এতে উভয় পক্ষের নয়জন নেতা-কর্মী আহত হোন। আবার , সোমবার ( ২ মার্চ) আলাওল হলের ২৩৮ নাম্বার রুমে দুুই রুমমেট কনকর্ড গ্রুপের বোরহান উদ্দিন ও বিজয় গ্রুপের আব্দুল্লাহ্র কথাকাটাকাটি হয়। আবদুল্লাহ বিষয়টি বিজয় গ্রুপের নেতা আবিরকে জানালে এক পর্যায়ে আবির আর বোরহানের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে আবিরের উপর আতর্কিত হামলা চালায় কনকর্ডের নেতাকর্মীরা । গঠনার পর বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে অবস্তানরত কনকর্ড গ্রুপের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকলে এক পর্যায়ে কনকর্ড গ্রুপের সাথে যোগ দেয় সিক্সটি নাইন। ফলে এক পক্ষে বিজয় গ্রুপ এবং অপরপক্ষে সিক্সটি নাইন ও কনকর্ডের গ্রুপের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মধ্যেরাত পর্যন্ত অন্তত দশবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হোন। স্বাধীনতার মাসে ছাত্রলীগের এমন অছাত্রমূলক কর্মকান্ডে দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সিরাজ উদ দেীল্লাহ বলেন , ‘তুচ্ছ কোনো ঘটনাকে ঘিরে ছাত্রলীগের এ ধরনের কর্মকান্ড একেবারেই কাম্য নয় ,আমি উপপাচার্য ম্যাম ও প্রক্টর মহোদয়কে আমার জায়গা থেকে বলবো যেন প্রতিটি ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্তা গ্রহণ করেন। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
আনন্দবাজার/ রনি/মো







