শিগগিরই ঘোষণা হচ্ছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের কমিটি নিয়েও কাজ চলছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
সম্ভাব্য ঢাকা কলেজের আহবায়ক কমিটিতে স্থান পেতে নেতাদের বাসায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছে সম্ভাব্য পদ-প্রত্যাশিরা। ছাত্রদলের সুপারইউনিট ঢাকা কলেজের কমিটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রত্যশিত পদ পেতে মধুর ক্যান্টিন ও টিএসসিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।
এদিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেতে মরিয়া বিতর্কিত দেলোয়ার হোসেন রাসেল। তিনি পাবনা সরকারি বুলবুল কলেজ থেকে শিবিরে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। বুলবুল কলেজের রাজনীতি করাকালীন শিবিরের সাথী ছিল। ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে খোলস পাল্টে হয়ে যান ছাত্রলীগ। এরপর থেকেই শুরু করেন নানারকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে নর্থ হলের ১২০ নম্বর রুমে থাকাকালিন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গালিবের সাথে রাজনীতি শুরু করে। গালিবের বাড়ি পাবনা হওয়ায় খুব দ্রুত আস্থাভাজন হয়ে উঠে রাসেল। গালিবের ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতির মূল হাতিয়ার হয়ে উঠে তিনি।
২০০৯ সালে ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে ৩,৫০,০০০ টাকা ছিনতাই করে। পরে নিউমার্কেট থানায় মামলা হয়, গ্রেফতারও হয়। পরে নিউমার্কেট থানা পুলিশের সহায়তায় ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার হয় এবং ছাত্রলীগ নেতা গালিব রাসেলকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে। উল্লেখ্য, গালিব পাবনার সাবেক এমপি টুকুর আত্বীয়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, পাবনা থেকে ঢাকায় আসার সময় কাশীনাথপুরে অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে আটক হয় দেলোয়ার হোসেন রাসেল। ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি মাসে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। রামদা হাতে সামনের সারিতেই মারমুখি ভূমিকায় থাকতে দেখা যায় রাসেলকে। সে সময় সংঘর্ষের ছবি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।
২০১০ সালের ১৮ মার্চ ঢাকা কলেজে দক্ষিণায়ন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের শিহাব-রনি ও তারেক-গালিব-টিটো পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশি অভিযানে ছাত্রলীগ সাবেক নেতা আব্দুল বাছেদ গালিব ও রাসেলসহ ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় গালিবের কাছ থেকে অস্ত্রসহ ৫২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। গালিবের নামে অস্ত্রআইনে মামলা ও বাকিদের ৫৭ জনের নামে ধারায় নিউমার্কেট থানায় মামলা হয় এবং বাকি ১৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন অপকর্মের জন্য তাকে হল থেকে বের করে দেয় সাবেক ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতা টিটু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলশান কার্যালয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা জানান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের পাবনা বিএনপির এক প্রভাবশালি নেতার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে রাসেল। ওই বিএনপি নেতার সূত্র ধরে সে বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে।









