৫৪৪ দিন পর খোলা হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালা। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা শুরু করে। পুরান ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গিয়ে দেখা যায়, নন-মেডিকেল থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
আজিমপুর কলোনির ভিতরে অবস্থিত অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজেও শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছেন। দীর্ঘদিন পর আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। সবার মনে উৎসবের আমেজ।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক সবাই আনন্দের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসছেন। এ এক অন্য রকম অনুভূতি। ৫৪৪ দিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত।
ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে উপস্থিত অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের স্কুলে প্রবেশ করিয়ে নানা গল্পে মশগুল হয়ে গেছেন। অনেকে আবার স্কুলে প্রবেশ করিয়ে নিজের কাজে চলে যাচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ও পরবর্তী বছরের এসএসসি-এইচএসসি এবং সমমানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে আর বাকিরা করবে সপ্তাহে একদিন। নির্দেশনা অনুযায়ী ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে ক্লাস শুরু হয় সকাল ৮টায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্কুলে ক্লাসের ক্ষেত্রে সকালে ১৯টি শিফটের ক্লাস ৮টা থেকে ১১টা এবং বিকেলে ১১টি শিফটের ক্লাস ১২টা ২০ থেকে ৩টা ৪০ পর্যন্ত চলবে। তবে কোনো কক্ষেই বসানো হচ্ছে না ৩০ জনের অধিক শিক্ষার্থী।
রাজধানীর ঢাকা কলেজেও সকাল ৮টায় শুরু হয় উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফেরায় লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় ঢাকা কলেজের পক্ষ থেকে। এরপর আগত শিক্ষার্থীদের শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুরো ক্যাম্পাসের সব ক্লাসরুম জুড়েই শিক্ষার্থীদের বসানো হয়।
ঢাকা কলেজের পাঠ পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক পুরঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন পর কলেজে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়ান হয়েছে। কোনো কক্ষে আমরা ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসাইনি।
এছাড়াও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর সশরীরে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এখানে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি খেয়াল রেখেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৭ মার্চ বন্ধ করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর মোট ২৩ দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়।
আনন্দবাজার/শহক









