পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘হিফযুল কোরআন ও কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা–২০২৬’ (সিজন–২)-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি ) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুইটি বাছাই পর্ব শেষে উত্তীর্ণ হাফেজদের নিয়ে ফাইনাল আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা চারটি গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন: (১) গ্রুপ-ক—হিফযুল কোরআন (৩০ পারা, বয়স অনূর্ধ্ব ২৫), (২) গ্রুপ-খ—কোরআন তেলাওয়াত (স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়), (৩) কোরআন তেলাওয়াত (মাদরাসা শিক্ষার্থী, বয়স অনূর্ধ্ব ১৮) এবং (৪) হিফযুল কোরআন/কোরআন তেলাওয়াত (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উত্তীর্ণ হাফেজরা তেলাওয়াত পেশ করেন। প্রধান বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক হাফেজ মাওলানা ক্বারী আহমদ বিন ইউসুফ আযহারী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও হাদিস বিশারদ এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ছাত্রদলের এমন আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, আজকে ছাত্রদল আয়োজিত এই কোরআন প্রতিযোগিতা আমাকে যেভাবে উৎসাহিত করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে, আমি ছাত্রদলকে বলতে চাই—আমি আপনাদের ভাই। আমি মান্যবর মন্ত্রী নই। আপনারা হুকুম করবেন কী করতে হবে। আমি আল্লাহর কানুনের জন্য যা প্রয়োজন তাই করব।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশে ইসলামের ধারক-বাহক ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ক্ষমতা নেওয়ার আগে বাংলাদেশের কী অবস্থা ছিল আপনারা তা জানেন। সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লিখেছেন কে? জিয়াউর রহমান। আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস কে লিখেছেন? জিয়াউর রহমান। ওআইসির সাথে সম্পর্ক করেছেন জিয়াউর রহমান। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সুসম্পর্ক করেছেন জিয়াউর রহমান।’
বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সাথে বাংলাদেশের আলেমদের সুসম্পর্ক ছিল। ২০০৯ সালে তিনি দেশের প্রখ্যাত আলেমদের জায়নামাজ, আতর এবং তসবিহ হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন। তিনি আলেমদের মূল্যায়ন করেছেন।
প্রধান আলোচক মুফতি আবদুল মালেক তার আলোচনায় বলেন, কুরআন, হাদিস, নবীজির সিরাত এবং ইসলামী শরীয়ত এখান থেকে আমাদের রাহবারি নিতে হবে আমাদের মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিটি অঙ্গনে আমাদের এই কুরআনের হেদায়েত নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ছাত্রদলের ঢাবি শাখা সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।









