নীলফামারীর ডিমলায় স্কুলের মাঠকে নিজের সম্পত্তি দাবি করে গাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ১০জুন সকালে ২নং ছোটখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গাছ লাগানোর বিষয়টি সবার নজরে আসে।
জানা যায়, উপজেলার খালাশাচাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামে ১৯৪৫ সালে ২নং ছোটখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানীয় ৩ ব্যক্তি ৫০ শতক জমি দান করেন। দাতাদের মধ্যে একজন কছির উদ্দিন।তার মৃত্যুর পর ছোট ভাই আজগার আলী পৈতৃক সূত্রে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। এ জমি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় কোনো খেলার মাঠ নেই। বিদ্যালয়ের মাঠেই এলাকার শিশু-কিশোরসহ শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে। কিন্তু আজগার আলী তার প্রভাব খাটিয়ে খেলার মাঠ দখল করে গাছ রোপণ করেছেন।তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের নামে ৫০ শতাংশ জমি থাকলেও অধিকাংশ জমি বেদখল হয়ে গেছে ।
স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন, মাঠে শুধু গাছ আর গাছ। খেলার কোনো জায়গা নেই। আমরা এখন কোথায় খেলবো।
মালিকানার দাবিদার আজগার আলী জানান, তিনি পৈতৃক সূত্রে এই ১৭ শতক জমির মালিক।বিদ্যালয়ের নয়, আমাদের পারিবারিক জমিতে গাছের চারা রোপণ করেছি।
ছোটখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নবাব আলী জানান, এ মাঠ স্কুলের নামে রেকর্ড করা সম্পত্তি। নিয়মিত এ জমির খাজনা দেয়া হয়। আমি বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আদালতে মামলা চলছে। গত ৮ জুন আদালত জমির উপর বিবাদী আজগার আলীর বিরুদ্ধে স্থিতাবস্থার জারি করেছে। যার নোটিশ আমি ডিমলা থানায় পৌছে দিয়েছি।
নোটিশ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে ডিমলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বদেব জানান, বিদ্যালয়ের ওই জমিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। খুব দ্রুত আদলতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ রহমান জানান,গত সপ্তাহে আমি জানতে পারলাম বিদ্যালয়ের মাঠে চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে তারা স্কুল মাঠ দখলে নেয়? আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









