কৃষকের নিপুন হাতে প্রকৃতির বুকে গড়ে তোলা ভোজ্যতেল হিসেবে সরিষার তেলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতিমৌসুমে খুলনার রূপসা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছ। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো পাওয়ার আশা কৃষকদের। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আগামীতে আরও সরিষার আবাদ বৃদ্ধির কথা বলছেন উপজেলা কৃষি অফিস।
রূপসা উপজেলার বিভিন্ন সরিষাক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, মাঠে যেনো কেউ সবুজের গায়ে হলুদেরর আল্পনা ( রং) দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে। হলুদ ফুলে ভরে গেছে পুরো মাঠ। মাঠের পর মাঠ যেনো হলুদের গালিচা। দিগন্তজুড়ে শুধু হলুদের সমারোহ। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌঁমাছির গুণগুনানিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা মাঠ।
রূপসার মৈশাগুনি গ্রামের এস এম ই কৃষক জসিম শেখ বলেন, এক সময় আমন ধান কাটার পর প্রায় দুই আড়াই মাস আমাদের জমি পতিত থাকতো। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ২০১৯ সাল থেকে এসব পতিত জমিতে সরিষার আবাদ শুরু করি এবং সরিষা চাষ করে বাড়তি আয় করতে সক্ষম হয়েছি। আমার দেখাদেখি এ গ্রামের অনেক কৃষক এখন তাদের পতিত জমিতে সরিষার আবাদ শুরু করেছে।
খান মোহাম্মাদপুর গ্রামের ফুয়াদ মোল্লা বলেন, সরিষা চাষ করলে নিজেদের তেলের চাহিদা মিটবে এবং অতিরিক্ত সরিষাবাজারে বিক্রি করলে পরিবারের বাড়তি আয় হবে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা সরিষা চাষ করি। প্রতি বিঘাতে ৫ থেকে ৭ মণ করে আমরা সরিষা ফলন পাই। কারণ সরিষা বিক্রি করে আমরা আবার বোরো ধান চাষ করতে পারি।
একই এলাকার কৃষাণী তাজনাহার বেগম বলেন, ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ও অতিরিক্ত সরিষা বাজারে বিক্রি করবো বলে এবার আমি ৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। সরিষার গাছ ভালো হয়েছে, আশা করছি ফলনও ভালো হবে। সরিষা চাষে লোকসান নেই যা পাবো সেটাই লাভ। তাই দিন দিন আমাদের এলাকায় সরিষার চাষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে দূর্জ্জনীমহল ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আহেম্মেদ বলেন, জমি পতিত ফেলে না রেখে শুধুমাত্র জমি চাষ করে সরিষা বীজ বুনলে সার ও পানি সেচ ছাড়াই আমরা সরিষার ফলন পায়। খরচ ছাড়াই বাড়তি একটা ফসল আবাদ করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, ‘দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে ও স্থানীয়ভাবে তেলের চাহিদা মেটাতে সরকার তেল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য বাড়তি গুরুত্বারোপ করেছেন। চলতি মৌসুমে অত্র উপজেলায় ৭৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা সরকারিভাবে উন্নত জাতের সরিষা বীজ ও সার বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি, যে কারণে কৃষকরা আগ্রহ করে সরিষা চাষ করেছে। আমরা আশাবাদী, আগামীতে সরিষার চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। সেই সঙ্গে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং দেশ একসময় তেল ফসল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর








