বরাহনগর কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্থান-পতনের নাটকীয় মোড়।
দেড় বছর আগে যেখান থেকে প্রথম বড় সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিলেন, সেই আসনেই এবার বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখ দেখলেন তৃণমূল প্রার্থী ও অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের কাছে তিনি হেরে যান ১৬ হাজার ৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর গত পাঁচ বছরে সায়ন্তিকা একাধিক নির্বাচনে অংশ নেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে লড়লেও সেবার বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে হেরে গেলেও রাজনীতি ছাড়েননি এবং সংগঠনের কাজে সক্রিয় থাকেন। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বরাহনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের সুযোগ পান তিনি। ওই সময় তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বিজেপিতে যোগ দিলে আসনটি শূন্য হয়। সেই উপনির্বাচনে বিজেপির সজল ঘোষকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বড় রাজনৈতিক সাফল্য পান সায়ন্তিকা।
কিন্তু এবারের নির্বাচনে একই কেন্দ্রে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও ফল বদলে যায়। প্রচারে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি, জনসংযোগ ও তারকাদের উপস্থিতি থাকলেও ভোটের ফলাফল তৃণমূল শিবিরের জন্য অনুকূলে আসেনি।
শেষ পর্যন্ত দেড় বছর আগের বিজয়ী প্রার্থী সজল ঘোষের কাছেই বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। এদিকে প্রচারের সময় বরাহনগরে দুই প্রার্থীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। ফ্লেক্স-হোর্ডিংকে ঘিরে বচসা থেকে শুরু করে স্লোগান ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়।
পরাজয়ের পর সায়ন্তিকার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে এখন জল্পনা চলছে। দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সংগঠনের দায়িত্বে রাখা হতে পারে।
অন্যদিকে তার রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরেও বিভিন্ন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।









