সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিয়ের গুঞ্জনকে ঘিরে প্রথমে আলোচনায় আসেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর। পরে জানা যায়, সেটি ছিল তাদের যৌথভাবে কাজ করা একটি প্রজেক্টের প্রচারণামূলক অংশ।
সেই কাজই এখন পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ নামে। যদিও এটি মূলত ওয়েব সিরিজ হিসেবে শুটিং শুরু হয়েছিল, পরে সেটিকে সিনেমায় রূপান্তর করা হয়েছে। আগামী ১৫ মে এটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রজেক্টের শুটিং শুরু হয়। এতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনার দায়িত্বেও ছিলেন হাসান জাহাঙ্গীর। তবে সিনেমা মুক্তির ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন এবং সেটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
অন্যদিকে ওমর সানী ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে মৌসুমীর একটি অডিও বক্তব্য শোনা যায়। সেখানে মৌসুমী জানান, এটি মূলত একটি নাটক হিসেবে শুরু হয়েছিল এবং পরে টেলিফিল্ম হিসেবে মুক্তির কথা ছিল। তার প্রশ্ন, সেটি কীভাবে সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে।
তিনি এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
জবাবে হাসান জাহাঙ্গীর বলেছেন, তাকে চাপ দিয়ে মৌসুমীর কাছ থেকে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং তিনি এই প্রজেক্টের বাইরের কেউ। তার দাবি, সিনেমাটি সরকারের অনুমোদনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, এটি সিনেমা নয় এমন দাবি কেউ করলে প্রমাণ দিতে হবে। তার ভাষায়, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রজেক্টে বাধা এলে তিনি ৬ কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন।
মৌসুমী প্রসঙ্গে পরিচালক বলেছেন, তিনি বিশ্বব্যাপী সম্মানিত একজন শিল্পী এবং কাজের সময় কোনো বিরোধ তৈরি হয়নি। বরং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই পুরো প্রজেক্ট সম্পন্ন হয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ এখন মুক্তির আগেই এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে, যেখানে সিনেমার গল্পের চেয়েও বাস্তবের দ্বন্দ্বই বেশি আলোচনায়।









