পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতা’র অভিযোগ তোলেন।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে নেবেনজিয়া বলেন, ইরানের ওপর এমনভাবে দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে যেন দেশটি তার প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। তার মতে, এই বয়ান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো উপকূলীয় দেশ আক্রান্ত হলে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব জলসীমায় জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের রয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে রুশ এই কূটনীতিক আরও বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি পশ্চিমাদের কার্যক্রমকে জলদস্যুতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তারা সরাসরি আক্রমণ না করলেও একতরফা নিষেধাজ্ঞার আড়ালে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্যাপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণ এলএনজি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
‘মুবারাজ’ নামের ওই ট্যাঙ্কারটি ঠিক কখন প্রণালি পার হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি নিজের সিগন্যাল বন্ধ রেখে গোপনে প্রণালি অতিক্রম করে এবং পরে ভারতের দক্ষিণ উপকূলের কাছে পুনরায় সিগন্যাল চালু করে।
যদিও এখনো সামগ্রিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে।









