আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১ লাখ ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাদের মধ্যে ৮৭ হাজার সদস্য ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ বডি ক্যামেরা। পুলিশের কাছে মোট ১০ হাজার বডি ক্যামেরা রয়েছে, যার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবহৃত দেড় হাজার ক্যামেরাও নির্বাচনকালীন কাজে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি অস্ত্র, হেলমেটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫৯৯ এসআই ও ৩ হাজার ৬০০ কনস্টেবল এখনো সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁরা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকছেন না।
পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। পুলিশ আগে থেকেই নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রাখে—মূলত মানসিক প্রস্তুতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকার নতুন বডি ক্যামেরা না দিলেও বিদ্যমান ১০ হাজার ক্যামেরা দিয়েই নির্বাচনকালীন কাজ পরিচালিত হবে। জানুয়ারির ৭ তারিখের মধ্যেই প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
এদিকে রংপুরে এক মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নির্বাচনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ‘বড় পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরাজিত প্রার্থী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশন নানা বৈঠক করেছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রগুলোকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে মোতায়েন কৌশল ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৩ লাখ ভোটকক্ষ রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ৭ লাখের বেশি সদস্য মাঠে থাকবে। এর মধ্যে আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ৯০ হাজারের বেশি। পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডও দায়িত্ব পালন করবে।
আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ দুই ডজন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিশন বলেছে, মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে প্রতীক বরাদ্দ, প্রচারসামগ্রী অপসারণ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহন ও সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।









