অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বিত বা না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক ক্ষেত্রেই আপস করতে হয়েছে এবং সমঝোতার পথ বেছে নিতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই তারা অনেক বিষয়ে কথা না বলে রাজনৈতিকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন আটকে দেওয়া হয়, সেই আশঙ্কা থেকেই আমরা সবকিছুতে আপস করেছি এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছি। আমরা একত্র হয়েছি, সমঝোতায় পৌঁছেছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও বিষয়টি তারা আগেই পরিষ্কার করেছেন। তার ভাষায়, যখন এই আদেশ রাষ্ট্রপতি জারি করেন, আমরা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলাম বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের কেউই জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে কিছু মানতে রাজি নয়। এর রেকর্ড, ভিডিও ও প্রেস সব জায়গায় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাক-স্বাধীনতার নামে অনিয়ন্ত্রিত আচরণ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ দেশে ও বিদেশে থেকে এমন পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে মনে হচ্ছে শুধু তাদেরই বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হওয়া এবং অনাচার বাড়তে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে একটি দল নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমরা যেন জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক ব্যবসায় পরিণত না করি। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা সবার, এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাই অংশীদার।
তিনি বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভাজন তৈরি করতে করতে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনো প্রভাব ফেলছে। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ শাসনামলের নির্যাতন, নিপীড়ন ও লুটপাটের কথাও উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দায়িত্ববোধ বাড়ায় এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করে। তিনি ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের আহ্বান জানান।
সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আসা কিছু বিশেষজ্ঞ ও বুদ্ধিজীবীর সুপারিশের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে। তিনি জানান, নোট অব ডিসেন্টসহ আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং এখন তা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।
তিনি সংসদে আরও বলেন, তিনি নতুন করে জানতে পেরেছেন যে সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নিজেকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন এবং তিনি বিষয়টিকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার শহীদ পরিবারের পরিচয় নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রবিহীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শেষে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষের সমর্থন ছিল একাংশ ছিল প্রশাসনের ভেতরে, আরেকাংশ ছিল বাইরে। অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকলেও দেশের স্বার্থে বাস্তবতা স্বীকার করা জরুরি।









