স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী তারা সেই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করেছেন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলনের ইতিহাস এবং সাংবিধানিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা সংবিধান রক্ষায় ভূমিকা নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হ্যাঁ, আমরা সংবিধান রক্ষার চেষ্টা করেছি, কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এটি আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত এবং ১৯৭১ সালের শহীদদের রক্তের সঙ্গে জড়িত। এই সংবিধানের জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছি, সংগ্রাম করেছি। এটি একটি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান।”
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর যদি রাষ্ট্রপতি না থাকতেন, তাহলে দেশে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো। তখন রাষ্ট্র পরিচালনা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেত।”
তিনি আরও বলেন, ওই সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তার ভাষায়, প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইলিয়াস আলী, পারভেজ হিরুসহ প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন।
তিনি আবেগঘনভাবে বলেন, গুম হওয়া নেতাদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট, বিশেষ করে শিশুদের কান্না এবং বাবার জন্য আকুতি এখনো সমাজকে নাড়া দেয় এবং উপস্থিত অনেককে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত এবং নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের অতীত রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।









