বাংলাদেশের আকাশপথে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে একযোগে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বিমানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে এটি বিমানকে বিশ্বমানের স্বল্পসংখ্যক উন্নত এয়ারলাইনসের কাতারে নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির অনুষ্ঠানে বলেন, সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী।
বিমান পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার ফলে বিমানের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। তিনি জানান, পুরোনো উড়োজাহাজগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে নতুন বোয়িং দিয়ে বহর আধুনিকায়ন করা হবে। বর্তমানে বিমান দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে, তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বহর সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১৪টি উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি Boeing 787-10 Dreamliner, ২টি Boeing 787-9 Dreamliner এবং ৪টি Boeing 737-8 MAX। নতুন ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স যুক্ত হওয়ায় স্বল্প দূরত্বের রুটগুলো আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে।
নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত আরাম ও সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার একটি প্রাথমিক চুক্তি করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হলো।
প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিশাল বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনাও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।









