দাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ
প্রকাশ:

বিস্তারিত
চাপে ছিল স্বাগতিকরা—কিন্তু সেই চাপই যেন জ্বালানি হয়ে উঠল। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।
টস হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। নতুন বলে দুর্দান্ত গতি ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পাওয়ার প্লেতেই তুলে নেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াংয়ের উইকেট। পরে আরও তিনটি শিকার করে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডকে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ (৫/৩২)। শরিফুল ইসলাম নেন ২টি উইকেট, আর তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন পান একটি করে।
কিউইদের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার নিক কেলি। ১০২ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। মুহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে গড়েন ৫৬ রানের জুটি। তবে সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর দ্রুত ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল।
তানজিদ ছিলেন আক্রমণাত্মক—৫৮ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে মারেন ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্যদিকে শান্ত খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস, ৭১ বলে ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন।
তৃতীয় উইকেটে এই জুটিই ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যায়।
শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় ৩০ এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৩৫.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। হাতে তখনও ছিল ৮৭ বল। বলের (অব্যবহৃত) হিসাবে ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছিল বাংলাদেশ।
এই জয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেল বাংলাদেশ। এখন সব হিসাব চট্টগ্রামের শেষ ম্যাচে। সেখানেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮ *; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।
বাংলাদেশ: ৩৫.৩ ওভারে ৪/১৯৯ (তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০*, হৃদয় ৩০, লেনক্স ২/৩৬, স্মিথ ১/৪৬)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।








