ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসর (উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)-এর নকআউট পর্ব মানেই নাটকীয়তা। আর সেই সবকিছুরই এক অবিশ্বাস্য মিশেল দেখা গেল অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতের ম্যাচে।
কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বায়ার্ন মিউনিখ ৪-৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ–কে (দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪), নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় রিয়াল। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আরদা গুলের।ম্যানুয়েল নয়্যারের ভুলের সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করে এই তুর্কি তরুণ স্তব্ধ করে দেন গ্যালারি। এটি ছিল চলতি মৌসুমের দ্রুততম গোলগুলোর একটি।
তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। মাত্র ৫ মিনিট পর জশুয়া কিমিচে–এর কর্নার থেকে গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান আলেকজান্ডার পাভলোভিচ। ২৯ মিনিটে আবারও ভুল করেন নয়্যার, যার সুযোগ নিয়ে গুলারের ফ্রি-কিকে রিয়াল এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় দুই দলের তারকারা।হ্যারি কেন–এর মৌসুমের ৫০তম গোল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে–এর দুর্দান্ত স্ট্রাইকে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-৩ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে লড়াই চলতে থাকে সমানতালে। তবে নাটকীয় মোড় আসে ম্যাচের শেষ দিকে। ৮৬ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮৯ মিনিটে লুইস দিয়াজ গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন। ইনজুরি টাইমে মাইকেল অলিস ব্যবধান বাড়িয়ে নিশ্চিত করেন জয়।
শেষ বাঁশির পরও উত্তেজনা থামেনি। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় বেঞ্চে থাকা গুলেরও লাল কার্ড দেখেন। রিয়ালের কোচ আলভারো আরবেলোয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ‘অবিশ্বাস্য ও অন্যায়’।
ম্যাচটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্টিভেন জেরার্ড–ও। তার মতে, এটি এক অবিশ্বাস্য ম্যাচ, তবে শৃঙ্খলার অভাবই রিয়ালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
অন্যদিকে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি প্রশংসা করেছেন দলের মানসিক দৃঢ়তার।
সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।









