দক্ষিণী সিনেমার দাপুটে তারকা আল্লু অর্জুন-যিনি পর্দায় ‘পুষ্পা’ হয়ে লাল চন্দনকাঠের দুর্ধর্ষ চোরাকারবারি রূপে ঝড় তুলেছেন বক্স অফিসে—তার জীবনের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানায়। এক সময় যিনি নাসা-এর বিজ্ঞানী হয়ে মহাকাশে রকেট ওড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন, সেই কিশোরই আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রে ‘রকেট’ গতির সাফল্যের প্রতীক।
‘ঝুকেগা নেহি’ মন্ত্রে কোটি ভক্তকে মাতিয়ে রাখা এই স্টাইলিশ সুপারস্টার আজ উদযাপন করছেন তার ৪৫তম জন্মদিন।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তামিল সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা আল্লু রামালিঙ্গাইয়ার নাতি এবং প্রখ্যাত প্রযোজক আল্লু অরবিন্দর ছেলে হওয়ার সুবাদে সিনেমার রক্ত তার ধমনীতেই ছিল। কিশোর বয়সে অভিনয়ের চেয়ে বিজ্ঞানের প্রতিই ঝোঁক ছিল বেশি আল্লু অর্জুন এর। কিন্তু ভাগ্য তাকে টেনে আনে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায়।
চেন্নাইয়ের সেন্ট প্যাট্রিক স্কুল থেকে প্রাথমিক পাঠ চুকিয়ে হায়দরাবাদের এমএসআর কলেজ থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর অ্যানিমেশন নিয়েও পড়াশোনা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনের আকর্ষণই জয়ী হয়।
২০০৩ সালে ‘গঙ্গোত্রী’ ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তারপর একে একে ‘বানি’,‘পারাগু’, ‘হ্যাপি’-র মতো ছবি করেন। প্রথম দিকে একেবারে চকোলেটহিরো হিসাবেই নিজেকে পর্দায় উপস্থাপন করেন। কিন্তু ‘আর্যা ২’ ছবি থেকে নিজেকে একটু একটু করে ভাঙতে শুরু করেন। এরপর থেকে পুরোপুরি অ্যাকশনে মন দেন আল্লু।
‘নাপেরু সুরিয়া’ ছবির সময় থেকে রীতি মতো ‘সুপারস্টার’ তকমা পেয়ে যান তিনি। এদিকে ২০২১ সালে তার ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ়’ যেন বক্সঅফিসের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। গড়ে তোলেন নতুন নজির। এই ছবির পর থেকে দেশজুড়ে তার খ্যাতি যেন অনেকগুণ বেড়ে যায়।
এদিকে ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে এই অভিনেতা ব্যস্ত তার পরবর্তী প্রজেক্ট ‘এএ২২*এ৬’ নিয়ে। ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী বছরের এপ্রিলেই বড় পর্দায় নতুন অবতারে ধরা দেবেন এই সুপারস্টার।
বংশ পরম্পরায় অভিনয়ের ব্যাটন আজ আল্লু অর্জুনের হাতে। তার ছোট ভাই আল্লু শিরিষও হাঁটছেন ভাইয়ের পথে। বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, সিনেমার মহাকাশে আল্লু অর্জুন আজ উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।









