দীর্ঘ রহস্যের অবসান ঘটিয়ে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য ব্যাচেলর’ খ্যাত অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যানাবেলা লোভাসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা।
গত ৬ মার্চ ২০২৫ সালে গ্রান কানারিয়া দ্বীপের বেরিয়েল গিরিখাতের একটি দুর্গম স্থানে তার মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারের সময় তার শরীরের নিচের অংশে কোনো পোশাক ছিল না এবং সঙ্গে ছিল না কোনো পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র। দীর্ঘ তদন্তের পর সম্প্রতি ডিএনএ এবং দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এটি আন্নাবেলার মরদেহ।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পিরিওডিকো এর তথ্যমতে, শুরুতে আন্নাবেলার মরদেহ শনাক্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। এমনকি ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষাতেও প্রথমে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার শরীরের বিশেষ কিছু ট্যাটু দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় পরিচয়। দ্বীপের পুলিশ প্রধান পাবলো ফার্নান্দেজ সালা জানান, মরদেহটি যে স্থানে পাওয়া গেছে সেখানে পৌঁছানো সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব এজন্য পেশাদার পর্বতারোহী হওয়ার প্রয়োজন।
হাঙ্গেরিয়ান সংবাদমাধ্যম ব্লিক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবার নিখোঁজ হন আন্নাবেলা। সে সময় তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে তাকে দ্বীপের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর তিনি ফের নিখোঁজ হন, যা শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো হত্যাকাণ্ড নয়। ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধ, যৌন নির্যাতন বা কোনো সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোনো স্থানে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যার মাধ্যমে তার মৃত্যু হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বন্যার পানির স্রোত তাকে এই দুর্গম গিরিখাতে ভাসিয়ে এনেছে।
২০২১ সালে হাঙ্গেরির জনপ্রিয় শো ‘দ্য ব্যাচেলর’ -এ অলিম্পিক ক্যানোস্টি ডেভিড টোথের মন জয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন আন্নাবেলা। জানা যায়, মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন তিনি। ক্যানসারের সঙ্গে তাঁর সাহসী যুদ্ধ ভক্তদের কাছে তাঁকে অনুপ্রেরণার পাত্রী করে তুলেছিল। ক্যানসার থেকে সুস্থ হলেও এই রোগটি তার মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার কারণে তিনি অনেকটা নিভৃতে থাকতে গ্রান কানারিয়া দ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন।









