টালিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পর শনিবার তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় উপস্থিত হন।
রাহুল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পর থেকে প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সের বিরুদ্ধে অব্যবস্থা এবং গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার দুপুর ২টার পর ফোরামের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হন। প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে ছিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, ভরত কল, সৌরভ দাস, যিশু সেনগুপ্ত ও ইন্দ্রাশীষ রায়সহ আরও অনেকে।
ফোরামের বৈঠকের পর জানানো হয়, প্রযোজনা সংস্থার জবাবে তারা সন্তুষ্ট হননি। ৩ এপ্রিল রাতে পুনরায় বৈঠক করে এফআইআর করার সিদ্ধান্ত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ১ এপ্রিল একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম সন্তোষজনক উত্তর পাবো, কিন্তু তা পাইনি। যিনি চলে গেছেন তাকে আর ফেরানো যাবে না। তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব আসল ঘটনাটা জানতে।”
রাহুলের মৃত্যু ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের বয়ানে অসঙ্গতি এবং প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতির অভিযোগ সব মিলিয়ে তদন্তকে আরও জটিল করেছে। ফোরামের পক্ষ থেকে প্রযোজনা সংস্থাকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এবার রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন থানার দিকে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ও শিল্পী বন্ধুরা।









