তীব্র গরমে বাইরে বের হলেই শরীর যেন দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘাম, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা-এসব লক্ষণ দেখা দিলে অনেকেই দোটানায় পড়েন, এটি কি শুধু পানিশূন্যতা, নাকি হিট স্ট্রোকের শুরু? কারণ দুটি সমস্যার উপসর্গ অনেক সময় মিলেমিশে যায়। তবে সঠিক সময়ে পার্থক্য বুঝতে না পারলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই গরমের দিনে শরীরের সংকেতগুলো ঠিকভাবে চিনে নেওয়া জরুরি-ডিহাইড্রেশন নাকি হিট স্ট্রোক, বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই হতে পারে বড় বিপদ থেকে বাঁচার উপায়।
হিট স্ট্রোক আর ডিহাইড্রেশনের মধ্যে পার্থক্য কী? কোন সমস্যায় কী ব্যবস্থা নেবেন? চলুন বিস্তারিত জেনে নেই-
হিট স্ট্রোক কতটা মারাত্মক হতে পারে?
গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে ভয়ংকর ঝুঁকির একটি হলো হিট স্ট্রোক, কারণ এটি হঠাৎ করেই আঘাত হানতে পারে। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়ে গেলেও অতিরিক্ত তাপ শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে এটি প্রাণসংকটের দিকেও গড়াতে পারে।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
হঠাৎ করে পেশিতে খিঁচুনি শুরু হয়
শরীর অত্যধিক গরম হয়ে যায়
শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
শরীরজুড়ে অস্বস্তি কাজ করে
অনেকসময় রোগী চোখে অন্ধকার দেখে এবং অজ্ঞান হয়ে যায়
কারও কারও বমিও হয়।
গরমে কখন ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়?
শরীরে পানির ঘাটতি হলেই ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন। অত্যধিক গরমে শরীরে প্রচণ্ড ঘাম হয়। এই ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও খনিজ বেরিয়ে যায়। তখন শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। এমনটা হলে পর্যাপ্ত পানি, ওআরএস স্যালাইন, লবণ-চিনির শরবত কিংবা লেবুর শরবত খেলে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
কীভাবে বুঝবেন ডিহাইড্রেশন হয়েছে?
ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো হিট স্ট্রোকের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে ডিহাইড্রেশন হলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে না। ঠোঁট ও মুখের চারপাশ শুকিয়ে যায়। প্রবল ঘাম হয় এবং শরীরজুড়ে ক্লান্তি কাজ করে। পানির ঘাটতিতে কারও কারও তীব্র মাথা ব্যথা হয়।
হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন কখন হয়?
গরমকালে পর্যাপ্ত পানি না খেলেই শরীর ডিহাইড্রেশনে ভুগতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তবে সময়মতো পানি বা ওআরএস স্যালাইন পান করলে ধীরে ধীরে অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে। নিয়মিত পানি ও স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
অন্যদিকে, হিট স্ট্রোক হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে এবং এটি তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে থাকলে বা তাপপ্রবাহের মধ্যে বাইরে চলাফেরা করলে এর আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই বাইরে বের হলে ঢিলেঢালা পোশাক পরা, ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা এবং সঙ্গে পানির বোতল রাখা জরুরি। অতিরিক্ত গরমে সঙ্গে রাখুন ছাতা, সানগ্লাস, পানির বোতল।
হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন?
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমেই রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে বসান বা শুইয়ে দিন। এরপর মুখ, চোখ, ঘাড়সহ শরীরে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন। গায়ের আঁটসাঁট পোশাক আলগা করে দিন, যাতে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে। রোগী সচেতন থাকলে তাকে ঠান্ডা পানি বা ওআরএস স্যালাইন পান করান।
তবে এসবের পরও যদি অস্বস্তি কমে না, বা রোগীর অবস্থা গুরুতর মনে হয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।









