তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ঠান্ডা পানি যেন সবচেয়ে সহজ সমাধান। তবে এই স্বস্তির মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডা পানি সম্পূর্ণ ক্ষতিকর না হলেও হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান শরীরে অস্বস্তি বা সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে স্বস্তি পেতে গিয়ে সচেতন থাকাও সমান জরুরি।
তবে এই ঠান্ডা পানি পান নিয়েই রয়েছে নানা মত। এটি কি সত্যিই ক্ষতিকর, নাকি শুধুই ভুল ধারণা-এ বিষয়ে কথা বলেছেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরী।
তার মতে, গরমে ঠান্ডা পানি পান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা হঠাৎ করে খুব ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অনেকের ধারণা, ঠান্ডা পানি খেলে চর্বি বাড়ে - এটি সম্পূর্ণ ভুল।
তবে সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে বাইরে তীব্র রোদে থাকার পর সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি পান না করাই ভালো।
তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করলে-
শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।
ফুসফুসে কফ জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সর্দি-কাশির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
দাঁতে সংবেদনশীলতা বা ব্যথা দেখা দিতে পারে।
হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খাবারের পর ঠান্ডা পানি খেলে খাবারের চর্বির অংশ শক্ত হয়ে যায় বলে শরীর তা ভাঙতে পারে না। ফলে শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত চর্বি জমে।
তাই একেবারে বরফ ঠান্ডা পানি না খেয়ে স্বাভাবিক পানি ও সামান্য ঠান্ডা পানি মিশিয়ে পান করাই উত্তম। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে।
এছাড়া খালি পেটে হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এটি হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।
গরমের এই সময়ে প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, ঘরে তৈরি ফলের রস, ঘোল বা শরবত খাওয়া যেতে পারে। তবে এসব পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে ভালো হয়, বাইরের বদলে ঘরেই স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি করে পান করা। এতে গরমে শরীর থাকবে সতেজ ও সুরক্ষিত।









