যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে এক ফোনালাপে মতবিনিময় করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছেন, উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ঘটনাবলী, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।
বার্তায় বলা হয়েছে, ইসহাক দার দ্রুত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে দ্বিতীয় দফার সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে আব্বাস আরাঘচি এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি দুই নেতা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হন।
গত কয়েক দিনে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনায় ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান অসিম মুনির মার্কিন ও ইরানি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
তবে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকটি বিলম্বিত হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। বৈঠকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ নিয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতি আলোচনা হয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে আবারও মুখোমুখি হতে পারে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লব-এর পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সংলাপ। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও এখনো যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে।









