ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রেললাইনে হামলায় অন্তত এক রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। কিয়েভ এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, রুশ ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের জেটি, গুদাম ও রেললাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জাপোরিঝিয়ার একটি রেল স্টেশনের সোর্টিং ইয়ার্ডে হামলায় এক সহকারী ট্রেনচালক নিহত হন। আহত প্রধান চালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কুলেবা বলেছেন, এটি সন্ত্রাসবাদের আরেকটি প্রমাণ। রাশিয়া শান্তিপূর্ণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, রাশিয়া চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশ দিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উড়িয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তার ভাষায়, এসব হামলার কোনো সামরিক যৌক্তিকতা নেই; বরং ভয়ভীতি ছড়ানোই এর উদ্দেশ্য।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার ছোড়া ২১৫টি ড্রোনের মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে কিছু ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে এবং কিছু আকাশসীমায় সক্রিয় ছিল।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতভর ১৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। দেশটির সামারা অঞ্চলের সিজরান শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। ইউক্রেন বর্তমান সীমান্তরেখা ধরে সংঘাত স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দখলের দাবি থেকে সরে আসেনি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তুরস্ককে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ভেতরেও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। যদিও অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে, কিছু হামলা সফল হওয়ায় উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে।









